উৎপল কান্তি দাস বনাম মঞ্জু রাণী দাস (১৯৯৭)

Utpal Kanti v Monju Rani Case FP BN

উৎপল কান্তি দাস বনাম মঞ্জু রাণী দাস

রেফারেন্স : 50 DLR (AD) (1998)

জুরিসডিকশন : বাংলাদেশ

আপিলকারী : উৎপল কান্তি দাস (নিম্ন আদালতে বিবাদী)
বিবাদী : মঞ্জু রাণী দাস (নিম্ন আদালতে বাদী)

ঘটনা :

মঞ্জু রাণী দাস দাবি করেন যে, তিনি উৎপল কান্তি দাসের সঙ্গে হিন্দু শাস্ত্র মোতাবেক তারাস্রী কালীমন্দিরে জনসম্মুখে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। অতঃপর, তারা ফরিদপুরে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট হলফনামা দাখিল করে তাদের বিবাহের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরবর্তীতে উৎপল কান্তি, মঞ্জু রাণীর পিতার নিকট ৩০,০০০ টাকা যৌতুক দাবি করেন এবং যৌতুক না দেওয়ার কারণে তিনি মঞ্জু রাণীকে তার পিতার বাড়িতে রেখে চলে যান। তিনি মঞ্জু রাণীকে আর কোনো ভরণপোষণ দেননি এবং পরে অন্যত্র পুনরায় বিবাহ করেন। বিচারিক আদালতে উৎপল দাবি করেন যে, তাদের মধ্যে কখনো বিবাহ হয়নি এবং উক্ত হলফনামাটি জাল।

নিম্ন আদালতসমূহ এবং হাইকোর্ট বিভাগ উভয়ই মঞ্জু রাণী দাসের পক্ষে রায় প্রদান করেন। অপরদিকে, উৎপল কান্তি দাসের পক্ষের আইনজীবী আপিল বিভাগে যুক্তি উত্থাপন করেন যে, উক্ত বিবাহের ক্ষেত্রে হিন্দু বিবাহের দুটি অপরিহার্য উপাদান –
(১) পবিত্র অগ্নির সামনে মন্ত্রোচ্চারণ এবং
(২) সপ্তপদী
সম্পন্ন হয়েছে এ মর্মে কোন প্রকার প্রমাণ নেই। তাই হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী এই বিবাহ অবৈধ।

ইস্যু :
১. হিন্দু বিবাহের এই দুটি অপরিহার্য শর্ত পূরণ না হওয়ার কারণে কি বাদী ও বিবাদীর মধ্যবর্তী বিবাহ অবৈধ বলে গণ্য হবে?

সিদ্ধান্ত :

আপিল বিভাগ পূর্ববর্তী আদালতসমূহে অনুমোদিত ঘটনাসমূহকে নিশ্চিত করেন, যে প্রকৃতপক্ষেই বাদী ও বিবাদীর মধ্যে কালী মন্দিরে একটি বিবাহ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং সেখানে তারা একাধিক ব্যক্তির উপস্থিতিতে মালাবদল সম্পন্ন করেছিলেন। আপিল বিভাগ এ বিষয়ে একমত প্রকাশ করেন যে, হিন্দু ব্রাহ্ম বিবাহ তখনই সম্পূর্ণ হয়, যখন দুইটি অপরিহার্য ধর্মীয় আচার সম্পন্ন হয়। তবে উক্ত মামলায় বৈবাহিক অনুষ্ঠানের প্রমাণ এবং কিছু সময়ের জন্য বাদী ও বিবাদীর স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাসের প্রমাণের ভিত্তিতে বিয়েটিকে বৈধ হিসেবে বিবেচনা করা যায়।

একইসাথে, উৎপল বিবাহের হলফনামার বৈধতা খণ্ডন করতেও ব্যর্থ হন। এমতবস্থায়, আদালত সিদ্ধান্ত দেন যে, হিন্দু বিবাহের দুটি আবশ্যিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন না হলেও, উক্ত প্রমাণ বৈবাহিক সম্পর্কের ধারণা প্রতিষ্ঠার জন্য যথেষ্ট।

বিচারপতি বি বি রায় চৌধুরী জানান, “হিন্দু শাস্ত্রের বিবাহের ধর্মীয় আচার এতটাই জটিল যে, সেসবের যথাযথ পালন সাধারণ অংশগ্রহণকারী এবং অতিথিদের আয়ত্তের বাইরে থাকে। কিন্তু একবার যদি বিবাহ অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে আইনত বিবাহ বৈধ বলেই ধরে নেওয়া হবে এবং বিবাহের অপরিহার্য আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়েছে বলে অনুমান করা হবে।”
ফলশ্রুতিতে, আদালত মঞ্জু রাণী দাসের পক্ষে রায় প্রদাণ করেন এবং আপিল খারিজ করে দেন।

আইনি নীতি :

বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট এই মামলায় এই নজির স্থাপন করেন যে, যদি বিবাহ অনুষ্ঠিত হওয়ার যথেষ্ট প্রমাণ থাকে, তবে হিন্দু বিবাহের সব আনুষ্ঠানিকতা যথাযথভাবে সম্পন্ন হোক বা না হোক, তা আইনতভাবে বৈধ বিবাহ বলে গণ্য হবে।


অনুবাদক :
১. রোজিনা আকতার নিশু

নোট : The Case Summary আইনের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং আইনের শিক্ষার্থীদের দ্বারা তৈরি একটি প্ল্যাটফর্ম। আমরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নির্ভুলভাবে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার ঘটনা ও রায় তুলে ধরার চেষ্টা করি। এই প্ল্যাটফর্মটি কখনোই পূর্ণাঙ্গ আইনের ধারণাপ্রদান করে না, আমরা শিক্ষার্থীদের শুধু মাত্র মামলার সারাংশ নির্ভর হওয়াকে নিরুৎসাহিত করি। ধন্যবাদ

Share