ক্লাইন বনাম পাইরোডাইন কর্পোরেশন (১৯৯১)

Klein v. Pyrodyne Corporation (1991)

ড্যানি ক্লাইন, ম্যারিয়ন ক্লাইন বনাম পাইরোডাইন কর্পোরেশন

সাইটেশন : 117 Wash. 2d 1

জুরিসডিকশন : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

বাদী : ড্যানি ক্লাইন, ম্যারিয়ন ক্লাইন
বিবাদী : পাইরোডাইন কর্পোরেশন

ঘটনা :

বিবাদী প্রতিষ্ঠান পাইরোডাইন কর্পোরেশন (Pyrodyne Corporation) ১৯৮৭ সালের ৪ জুলাই ওয়াশিংটনের পুইয়ালুপে (Puyallup) অবস্থিত ‘ওয়েস্টার্ন ওয়াশিংটন স্টেট ফেয়ারগ্রাউন্ডস’-এ জনসাধারণের জন্য একটি আতশবাজি প্রদর্শনী আয়োজনের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। উক্ত প্রদর্শনীতে কর্মরত সকল পাইরোটেকনিক (pyrotechnic) অপারেটর পাইরোডাইন কর্পোরেশনের কর্মচারী ছিলেন এবং তাঁরা তাঁদের চাকরির স্বাভাবিক কার্যপরিধির মধ্যে দায়িত্ব পালন করছিলেন। Revised Code of Washington (RCW) এর ধারা 70.77.285 অনুযায়ী শারীরিক বা বস্তুগত ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদানের উদ্দেশ্যে পাইরোডাইন কর্পোরেশন ১০ লক্ষ (১ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের একটি বীমা পলিসি গ্রহণ করেছিলো। প্রদর্শনীর এক পর্যায়ে একটি ৫-ইঞ্চি মর্টার (mortar) আড়াআড়ি অবস্থায় কাত হয়ে যায় এবং সেখান থেকে নিক্ষিপ্ত একটি শেল উপস্থিত দর্শকদের দিকে ছুটে যায়। ফলে, দর্শকমণ্ডলীর মাঝে উপস্থিত ক্লাইন ভ্রাতৃদ্বয়ের পোশাক ও মুখমণ্ডল দগ্ধ হয় এবং চোখে গুরুতর আঘাত লাগে। অস্বাভাবিকভাবে বিপজ্জনক কার্যকলাপে অংশগ্রহণের কারণে কঠোর দায়বদ্ধতার (strict liability) দায়ে ক্লাইন ভ্রাতৃদ্বয় পাইরোডাইনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

যুক্তিতর্ক :

বাদী পক্ষের যুক্তি :
বাদীপক্ষ দাবি করেন যে, পাইরোডাইন কর্পোরেশন মর্টারটি ভুলভাবে স্থাপন করেছিলো। তবে বিস্ফোরণের ফলে সংশ্লিষ্ট আলামত (evidence) ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এ অভিযোগ প্রত্যক্ষভাবে প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি। এছাড়াও, বাদীপক্ষ অভিযোগ করেন যে, পাইরোডাইন কর্পোরেশন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নিকট প্রদর্শনীস্থলের নকশা (diagram) দাখিল করেনি এবং দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ (crowd control) ও নিরাপদ দূরত্ব (safe distance) বজায় রাখতেও ব্যর্থ হয়েছে। বাদীপক্ষ আরও যুক্তি উপস্থাপন করেন যে, পাইরোডাইন কর্পোরেশনের পরিচালিত কার্যক্রমটি অস্বাভাবিকভাবে বিপজ্জনক কার্যক্রম (abnormally dangerous activity) হওয়ায় তাদের দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে কঠোর দায়ের নীতি (Strict Liability) প্রয়োগ করাই উপযুক্ত আইনগত মানদণ্ড (standard of culpability)।

বিবাদী পক্ষের যুক্তি:
বিবাদী পাইরোডাইন কর্পোরেশন দাবি করে যে, একটি ৫-ইঞ্চি শেল তার নির্ধারিত নল (tube) ত্যাগ করার পূর্বেই বিস্ফোরিত হয়। এর ফলে পাশের আরেকটি মর্টার (mortar) কাত হয়ে যায় এবং সেটি আড়াআড়িভাবে নিক্ষিপ্ত হয়। বিবাদীপক্ষের বক্তব্য ছিল যে, এ ঘটনা সম্পূর্ণরূপে আতশবাজির প্রস্তুতকারকের (manufacturer) অবহেলার ফল। সুতরাং, এ ঘটনার জন্য পাইরোডাইন কর্পোরেশনের উপর কোনো আইনগত দায় (liability) বর্তায় না। বিবাদীপক্ষ আরও যুক্তি দেয় যে, প্রযোজ্য কঠোর আইন ও নিরাপত্তা বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করলেই আতশবাজির প্রদর্শনীর অন্তর্নিহিত উচ্চমাত্রার ঝুঁকি দূর করা সম্ভব। অতএব, এ ধরনের প্রদর্শনীকে অস্বাভাবিকভাবে বিপজ্জনক কার্যক্রম (abnormally dangerous activity) হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়। বরং, তাদের মতে, ৪ জুলাই (যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস) উদ্‌যাপনের অংশ হিসেবে জনসাধারণের জন্য আতশবাজির প্রদর্শনী একটি প্রচলিত রীতি (common usage) হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।

ইস্যু :
১. আতশবাজির প্রদর্শনী পরিচালনা করা অস্বাভাবিকভাবে বিপজ্জনক কার্যক্রম (abnormally dangerous activity) হিসেবে গণ্য হতে পারে কি না।
২. প্রযোজ্য আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করাই আতশবাজির প্রদর্শনীর অন্তর্নিহিত ঝুঁকি সম্পূর্ণরূপে দূর করার জন্য যথেষ্ট কি না।
৩. জনসাধারণের জন্য আয়োজিত আতশবাজির প্রদর্শনীকে প্রচলিত রীতি/ প্রথা (common usage) হিসেবে বিবেচনা করা যায় কি না। 
৪. তৃতীয় পক্ষের (আতশবাজির প্রস্তুতকারক) হস্তক্ষেপ বা সংশ্লিষ্টতা, অস্বাভাবিকভাবে বিপজ্জনক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে কঠোর দায় (Strict Liability) থেকে বিবাদীকে অব্যাহতি প্রদান করতে পারে কি না।

সিদ্ধান্ত :

ওয়াশিংটনের সুপ্রিম কোর্ট The Restatement (Second) of Torts-এর নীতিমালা অনুসরণ করে কোনো কার্যক্রম অস্বাভাবিকভাবে বিপজ্জনক (abnormally dangerous) কি না, তা নির্ধারণের জন্য নিম্নোক্ত ছয়টি বিষয় বিবেচনার কথা উল্লেখ করেন:
(ক) কার্যক্রমটি অন্য ব্যক্তির দেহ, ভূমি বা সম্পত্তির (chattel) ক্ষতির উচ্চমাত্রার ঝুঁকি সৃষ্টি করে কি না;
(খ) উক্ত ঝুঁকি থেকে সৃষ্ট ক্ষতি গুরুতর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কি না;
(গ) যুক্তিসংগত সতর্কতা (reasonable care) অবলম্বন করলেও ঝুঁকি সম্পূর্ণরূপে দূর করা সম্ভব কি না;
(ঘ) কার্যক্রমটি প্রচলিত রীতি বা প্রথার (common usage) অন্তর্ভুক্ত কি না;
(ঙ) যে স্থানে কার্যক্রমটি পরিচালিত হয়েছে, সেই স্থানের জন্য তা উপযুক্ত ছিল কি না;
(চ) কার্যক্রমটির সামাজিক বা জনস্বার্থমূলক উপযোগিতার তুলনায় অন্তর্নিহিত বিপদ অধিক কি না।

সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে আদালত রায় দেন যে, আতশবাজির প্রদর্শনীর ক্ষেত্রে উপর্যুক্ত (ক), (খ) ও (গ) উপাদানসমূহ বিদ্যমান। আদালত মন্তব্য করেন যে, পাইরোটেকনিশিয়ানদের জন্য কঠোর প্রশাসনিক নিরাপত্তা বিধিমালা থেকেই আতশবাজির ঝুঁকি প্রমাণিত হয়। আদালত স্বীকার করেন যে, এসব বিধিমালা অনুসরণ করলে ঝুঁকি হ্রাস করা সম্ভব, তবুও তা সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা সম্ভব নয়। এছাড়া আদালত (ঘ) নম্বর উপাদানের আলোকে সিদ্ধান্ত দেন যে, আতশবাজি প্রদর্শন কোন প্রচলিত রীতি (common usage) নয়, কারণ খুব অল্পসংখ্যক ব্যক্তি আতশবাজি ফোটানোর কাজে অংশগ্রহণ করেন। ফলে ছয়টির মধ্যে চারটি উপাদান বিদ্যমান থাকায় সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকগণ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, আতশবাজি প্রদর্শন একটি অস্বাভাবিকভাবে বিপজ্জনক কার্যক্রম (abnormally dangerous activity)।

আদালত আরও বলেন যে, RCW 70.77.285 অনুযায়ী আতশবাজি প্রদর্শনের পূর্বে বাধ্যতামূলকভাবে বীমা সুরক্ষার শর্তটি বিবাদীর উপর কঠোর দায় (strict liability) আরোপ করে। আদালত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন যে, তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ বিবাদীকে অস্বাভাবিক বিপজ্জনক কার্যকলাপের জন্য কঠোর দায়বদ্ধতা থেকে কেবল তখনই অব্যাহতি দিতে পারে, যখন সেই হস্তক্ষেপটি কোনো অস্বাভাবিক ঝুঁকিকে পূর্বানুমান না করতে পারে। আতশবাজি প্রদর্শনের ঝুঁকির ক্ষেত্রে প্রস্তুতকারকের অসতর্কতার বিষয়টি সহজেই পূর্বানুমানযোগ্য বলে বিবেচিত হয়। অতএব, সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে পাইরোডাইন কর্পোরেশনকে সৃষ্ট ক্ষতির জন্য কঠোর দায় নীতির ভিত্তিতে দায়ী ঘোষণা করা হয়।

সংশ্লিষ্ট আইনি নীতি :

কঠোর দায়ের নীতি : কঠোর দায় (Strict Liability)-এর নীতি অনুযায়ী, বিবাদী তার পক্ষ থেকে সকল প্রয়োজনীয় সতর্কতা বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও, নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সৃষ্ট ক্ষতির জন্য তাকে দায়ী করা হতে পারে। অর্থাৎ, এখানে দায় নির্ধারণের জন্য অবহেলা (negligence) প্রমাণ করা আবশ্যক নয়। নিম্নোক্ত উপাদানসমূহ বিদ্যমান থাকলে Strict Liability প্রযোজ্য হতে পারে:
১. বিবাদী বাইরের কোনো বস্তু (object) তার ভূমিতে এনে সংরক্ষণ বা স্থাপন করেছেন।
২. উক্ত বস্তু সংরক্ষণের উদ্দেশ্য ভূমির স্বাভাবিক ব্যবহার (natural use of the land)-এর অন্তর্ভুক্ত নয়।
৩. বস্তুটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে (escape) তা ক্ষতি বা অনিষ্ট (mischief) ঘটানোর সম্ভাবনা রাখে।
৪. বস্তুটি বাস্তবিক অর্থে বিবাদীর নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে যায় (escapes) এবং এর ফলে অন্যের ব্যক্তি বা সম্পত্তির ক্ষতি সংঘটিত হয়।
টর্টের কঠোর দায় নীতির উৎপত্তি হয়েছে ‘রাইল্যান্ডস বনাম ফ্লেচার (১৮৬৮)‘ মামলায়।

সংশ্লিষ্ট আইন :

  1. Revised Code of Washington (যুক্তরাষ্ট্র)
    • ধারা : 70.77.285

অনুবাদক :
. মো. আতিকুর রহমান

নোট : The Case Summary আইনের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং আইনের শিক্ষার্থীদের দ্বারা তৈরি একটি প্ল্যাটফর্ম। আমরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নির্ভুলভাবে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার ঘটনা ও রায় তুলে ধরার চেষ্টা করি। এই প্ল্যাটফর্মটি কখনোই পূর্ণাঙ্গ আইনের ধারণা প্রদান করে না, আমরা শিক্ষার্থীদের শুধু মাত্র মামলার সারাংশ নির্ভর হওয়াকে নিরুৎসাহিত করি। ধন্যবাদ


Cite this Page:

OSCOLA

APA

Bluebook

Share