আখতার হোসেন বনাম বাংলাদেশ সরকার (১৯৯১)

Akhtar Hossain vs Government of Bangladesh and Others (1991)

আখতার হোসেন বনাম বাংলাদেশ সরকার এবং অন্যান্য

সাইটেশন : 45 DLR (HCD) (1993) 382

জুরিসডিকশন : বাংলাদেশ

আবেদনকারী : আখতার হোসেন
বিবাদী : বাংলাদেশ সরকার এবং অন্যান্য

ঘটনা :

আবেদনকারী, যিনি ছিলেন ভিটিকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং আসন্ন উপজেলা নির্বাচনের একজন প্রার্থী। তিনি ২০ জুন ১৯৯১ তারিখে প্রকাশিত গেজেট, গেজেট নং ৬৩০, এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন। উক্ত গেজেটের মাধ্যমে পূর্বের ভিটিকান্দি ইউনিয়ন পরিষদকে তার একত্রিশটি গ্রামসহ বিভক্ত করে, ভিটিকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ ও কালাকান্দি ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করা হয়েছিল। যেখানে ভিটিকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের জনসংখ্যা আঠারো হাজার দুই শত বারো এবং কালাকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের জনসংখ্যা চৌদ্দ হাজার দুই শত চুয়ান্ন দেখানো হয়। আবেদনকারীর দাবি ছিল যে, গেজেটে উল্লিখিত জনসংখ্যার পরিসংখ্যানগুলো সঠিক নয়।

এছাড়াও তিনি দাবি করেন, ১৯৮৩ সালের ইউনিয়ন সীমা ঘোষণা ও পরিবর্তন বিধিমালার বিধি ২-এর উপবিধি (১)-এর দফা (খ) লঙ্ঘন করে এই বিভাজন করা হয়েছে। কারণ, বিধিমালা মোতাবেক কোনো প্রকার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি, কোনো প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হয়নি এবং সাত দিনের মধ্যে আপত্তি জানানোর জন্য কোনো আহ্বানও জানানো হয়নি। তিনি সঠিক জনসংখ্যার রেকর্ড হিসেবে উপজেলা পরিসংখ্যান অফিস থেকে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান [সংযোজনী ‘ই’]-কে উল্লেখ করেন।

তিনি সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের দফা (২) অনুযায়ী রিট আবেদন দায়ের করেন এবং সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৮৮ ও ১১৪(গ) এর আলোকে উক্ত গেজেটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন। তিনি বিভাগীয় কমিশনারের নিকট একটি আপিলও দায়ের করেন, [যা সংযোজনী ‘চ’ হিসেবে চিহ্নিত], তবে তা গেজেট প্রকাশের পাঁচ মাস পর দাখিল করা হয় এবং সেখানে সংযোজনী ‘ঙ’ (উপজেলা পরিসংখ্যান অফিস থেকে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান) -এর কোনো উল্লেখ ছিল না। তা সত্ত্বেও তিনি আদালতের কাছে গেজেটটিকে আইনগতভাবে অগ্রহণযোগ্য ঘোষণার আবেদন জানান।

ইস্যু :
১. গেজেট নোটিফিকেশন নং ৬৩০ অনুযায়ী ইউনিয়ন বিভাজন ১৯৮৩ সালের ইউনিয়ন সীমা ঘোষণা ও পরিবর্তন বিধিমালার বিধি ২(১)(খ) লঙ্ঘন করে করা হয়েছিল কি না।
২. বিধি ২(৩) ও বিধি ২(৪) অনুযায়ী নির্ধারিত সাত দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় আপিল দাখিল না করায় আবেদনকারীর রিট আবেদনটি গ্রহণযোগ্য (maintainable) ছিল কি না।
৩. ১৮৭২ সালের সাক্ষ্য আইনের ধারা ৮৮ এবং ১১৪(গ) অনুযায়ী গেজেটটি ‘নিয়মিততা ও বৈধতার অনুমান’ (Presumption of regularity) বা সঠিকভাবে সম্পাদিত হয়েছিল বলে বিবেচ্য হবে কি না, এবং আবেদনকারী সেই অনুমানকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ দিতে পেরেছিল কি না।

যুক্তিতর্ক :

আবেদনকারী পক্ষের যুক্তি :
আবেদনকারী যুক্তি দেন যে, ১৯৮৩ সালের ইউনিয়ন সীমা ঘোষণা ও পরিবর্তন বিধিমালার বিধি ২-এর উপবিধি (১)-এর দফা (খ) অনুসরণ না করেই গেজেট নোটিফিকেশন নং ৬৩০ জারি করা হয়েছিল, কারণ পূর্বে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি, কোনো প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হয়নি এবং সাত দিনের মধ্যে আপত্তি জানানোর জন্য কোনো আহ্বানও জানানো হয়নি। তিনি গেজেটে প্রদর্শিত জনসংখ্যার সংখ্যা ভুল প্রমাণ করার জন্য উপজেলা পরিসংখ্যান অফিস থেকে প্রাপ্ত সংযোজনী ‘ই’-এর উল্লেখ করেন। এছাড়াও, পরবর্তীতে দায়ের করা তার রিট আবেদনে তিনি দাবি করেন যে, উক্ত গেজেটটির কোনো আইনি ভিত্তি নেই। তিনি উল্লেখ করেন, সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৮৮ এবং ধারা ১১৪(গ) দ্বারা গেজেটটি বৈধ হতে পারে না, কারণ বিধি ২ অনুযায়ী নির্ধারিত আবশ্যিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি, ফলে নিয়মিততা ও বৈধতার অনুমান (presumption of regularity) এখানে প্রযোজ্য নয়।

বিবাদী পক্ষের যুক্তি:
বিবাদীগণ বলেন যে, ১৯৮৩ সালের ইউনিয়ন সীমা ঘোষণা ও পরিবর্তন বিধিমালার বিধি ২(৬) অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর ডেপুটি কমিশনার গেজেট নোটিফিকেশন নং ৬৩০ জারি করেন। তারা সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৮৮ এবং ধারা ১১৪(গ)-এর ওপর নির্ভর করে যুক্তি দেন যে, সরকারি কর্মকাণ্ড স্বাভাবিক ও নিয়মমাফিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে অনুমান করা হয়। তারা আরও যুক্তি দেন, আবেদনকারী বিধি ২(৩) ও বিধি ২(৪) অনুযায়ী নির্ধারিত সাত দিনের মধ্যে আপিলের প্রক্রিয়া অনুসরণ করেননি; বরং তিনি পাঁচ মাস পর সংযোজনী ‘চ’ দাখিল করেন, যেখানে সংযোজনী ‘ঙ’-এর কোনো উল্লেখ ছিল না। তাদের মতে, সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের দফা (২) অনুযায়ী দায়ের করা রিট আবেদনটি গ্রহণযোগ্য নয় (maintainable), এবং জনসংখ্যার পরিসংখ্যানের বিষয়ক বিতর্ক রিটের এক্তিয়ারভুক্ত নয়।

সিদ্ধান্ত :

আদালত রায় দেন যে, আবেদনকারীর চ্যালেঞ্জ সফল হতে পারে না, কারণ জনসংখ্যার পরিসংখ্যানসংক্রান্ত বিরোধ প্রমাণসাপেক্ষ বিষয় এবং তা সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের দফা (২) অনুযায়ী রিটের মাধ্যমে বিচারাধীন বিষয় নয়। আদালত লক্ষ্য করেন যে, আবেদনকারী ১৯৮৩ সালের ইউনিয়ন সীমা ঘোষণা ও পরিবর্তন বিধিমালার বিধি ২(৩) ও বিধি ২(৪) অনুযায়ী নির্ধারিত আইনগত আপিল প্রক্রিয়া অনুসরণ করেননি, কেননা তিনি গেজেট নোটিফিকেশন জারির পাঁচ মাস পর আপিল দায়ের করেছিলেন।

সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২-এর ধারা ৮৮ এবং ধারা ১১৪(গ)-এর ওপর নির্ভর করে আদালত বলেন, সরকারি কার্যাবলি নিয়মমাফিকভাবে সম্পাদিত হয়েছে বলে আইনগতভাবে অনুমেয় এবং এই অনুমান খণ্ডনের জন্য পর্যাপ্ত কোনো উপাদান উপস্থাপন করা হয়নি। গেজেটটি বিধি ২(৬) অনুযায়ী ডেপুটি কমিশনার কর্তৃক জারি করা হয়েছে এবং এর বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো কোনো কারণ আদালত খুঁজে পাননি।

ফলশ্রুতিতে, রিট আবেদনটি খারিজ করে দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট আইন :

  1. সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২
    • ধারা : ৮৮, ১১৪(গ)
  2. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান
    • অনুচ্ছেদ : ১০২(২)
  3. ইউনিয়ন সীমা ঘোষণা ও পরিবর্তন বিধিমালা, ১৯৮৩
    • বিধি : ২(১)(খ), ২(৩), ২(৪), ২(৬)

অনুবাদক :
. মো. আতিকুর রহমান

নোট : The Case Summary আইনের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং আইনের শিক্ষার্থীদের দ্বারা তৈরি একটি প্ল্যাটফর্ম। আমরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নির্ভুলভাবে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার ঘটনা ও রায় তুলে ধরার চেষ্টা করি। এই প্ল্যাটফর্মটি কখনোই পূর্ণাঙ্গ আইনের ধারণা প্রদান করে না, আমরা শিক্ষার্থীদের শুধু মাত্র মামলার সারাংশ নির্ভর হওয়াকে নিরুৎসাহিত করি। ধন্যবাদ


Cite this Page:

OSCOLA

APA

Bluebook

Share