নাহিদ সারওয়ার বনাম রেজিস্ট্রার, আরজেএসসি ও অন্যান্য
সাইটেশন : Company Matter No. 266 of 2021
জুরিসডিকশন : বাংলাদেশ
আবেদনকারী : নাহিদ সারওয়ার
বিবাদী : যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর (আরজেএসসি) ও অন্যান্য
ঘটনা :
আবেদনকারী নাহিদ সারওয়ার “Cityscape International Ltd.”-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। যেটি ছিলো কোম্পানিজ অ্যাক্ট, ১৯৯৪-এর অধীনে ২৬ আগস্ট ২০০৯ তারিখে নিবন্ধিত একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি। কোম্পানির অভ্যন্তরীণ পরিচালনা ও আইনগত পরিপালন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে নির্দেশনা চেয়ে উক্ত আইনের ৮১(২), ৮৫(৩) এবং ৩৯৬ ধারার অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে আবেদনটি দাখিল করা হয়। কোম্পানিটি রিয়েল এস্টেট ও ভূমি উন্নয়ন ব্যবসায় নিয়োজিত ছিলো। শুরুতে কোম্পানিটির দুইজন শেয়ারহোল্ডার ও পরিচালক ছিলেন। তারা হলেন আবেদনকারী নাহিদ সারওয়ার নিজে এবং তাঁর মা, মিসেস খালেদা সারওয়ার। কোম্পানিটি আইনগত বাধ্যবাধকতাগুলো যথাযথভাবে পালন করে স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছিলো। এর মধ্যে বার্ষিক সাধারণ সভা (Annual General Meeting বা AGM) অনুষ্ঠিত করাও অন্তর্ভুক্ত ছিলো। কোম্পানিটির সর্বশেষ AGM যথাযথভাবে ২২ জানুয়ারি ২০১৭ তারিখে অনুষ্ঠিত হয়। তবে ১৬ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে মিসেস খালেদা সারওয়ারের মৃত্যুর পর কোম্পানিটির কাঠামোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটে। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর শেয়ারগুলো আইনগত উত্তরাধিকারীদের নিকট উত্তরাধিকারসূত্রে হস্তান্তরিত হওয়ার কথা ছিলো। তাঁর আইনগত উত্তরাধিকারীরা ছিলেন নাহিদ সারওয়ার, শেলি সারওয়ার এবং পাভেল শাহিদ সারওয়ার। কিন্তু তাঁর মালিকানাধীন মোট শেয়ারের হস্তান্তর সম্পূর্ণ হয়নি। এর ফলে কোম্পানিটির শেয়ারহোল্ডার ও পরিচালকদের গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়। উক্ত পরিস্থিতির ফলে কোম্পানিটির কার্যকর কর্পোরেট কাঠামো ভেঙে পড়ে এবং কোম্পানির যথাযথ পরিচালনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি হয়। একই সময়ে, ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত কোনো বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM) অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে কোম্পানিটি কোম্পানিজ অ্যাক্ট, ১৯৯৪ এর অধীনে “statutory default” অবস্থায় পড়ে।
উক্ত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে আবেদনকারী দাবি করেন যে, কোম্পানির Articles of Association এবং কোম্পানিজ অ্যাক্টের বিধান অনুযায়ী বোর্ড সভা ও সাধারণ সভা আহ্বান করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছিলো। শেয়ার হস্তান্তর সম্পন্ন না হওয়া এবং এর ফলে কোরাম ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ পরিচালনা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এমন পরিস্থিতিতে, আবেদনকারী আদালতের শরণাপন্ন হয়ে ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত না হওয়া AGM-গুলোর বিলম্ব ক্ষমা (condonation of delay) করার জন্য, উক্ত বিলম্বিত সভাগুলো অনুষ্ঠিত করার অনুমতি প্রদানের জন্য, আইনগত জরিমানা ও দণ্ড থেকে অব্যাহতি প্রদানের জন্য এবং প্রয়োজনীয় উপযুক্ত নির্দেশনা প্রদানের জন্য আবেদন করেন। এসব নির্দেশনার উদ্দেশ্য ছিলো, কোম্পানির একমাত্র কার্যরত পরিচালককে বোর্ড সভা আহ্বানের সুযোগ প্রদান করা, যাতে পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা যায় এবং মৃত শেয়ারহোল্ডারের আইনগত উত্তরাধিকারীদের অনুকূলে শেয়ারগুলোর হস্তান্তর সম্পন্ন করা যায়।
ইস্যু :
১. ‘একমাত্র পরিচালক’ (Sole Director) বোর্ড সভা আহ্বান ও অনুষ্ঠিত করতে পারেন কিনা।
২. কোন পরিস্থিতিতে কোম্পানিজ অ্যাক্ট ৮৫(৩) ধারার বিধান প্রয়োগ করা যথাযথ ও উপযুক্ত হবে?
৩. কোম্পানিজ অ্যাক্টের তফসিল ১-এ বর্ণিত কোনো বিধির সঙ্গে সংসদ কর্তৃক প্রণীত আইনের সংঘাত হলে, উক্ত আইনের আইনগত অবস্থান কী হবে?
৪. কোম্পানিজ অ্যাক্টের তফসিল ১ এ অন্তর্ভুক্ত বিধি গুলো কোম্পানির জন্য বাধ্যতামূলক ও পালনীয় কিনা।
৫. কোনো অ-সদস্য (non-member) ব্যক্তিকে কি পরিচালক হিসেবে নিয়োগ করা যায়? এবং কোম্পানিজ অ্যাক্টের ৯১ ধারার অধীনে পরিচালকরা কি অবশ্যই কোম্পানির সদস্যদের মধ্য থেকেই নিয়োগপ্রাপ্ত হতে হবে?
৬. অন্যান্য পরিচালকদের পদত্যাগ বা মৃত্যুর কারণে পরিচালকের সংখ্যা কমে মাত্র একজন হলে এবং বোর্ড সভার জন্য প্রয়োজনীয় কোরাম না থাকলে, কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে?
যুক্তিতর্ক :
আবেদনকারী পক্ষের যুক্তি :
আবেদনকারীর পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয় যে, AGM অনুষ্ঠিত করতে বিলম্ব এবং ব্যর্থতা কোনো ইচ্ছাকৃত খেলাপ বা অবহেলার ফল ছিলো না; বরং আবেদনকারীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কিছু পরিস্থিতির কারণে এমনটি ঘটেছিলো। বিশেষত, একজন শেয়ারহোল্ডারের মৃত্যু কোম্পানির কাঠামো ও কোরাম সংক্রান্ত জটিলতা সৃষ্টি করেছিলো। আবেদনকারী যুক্তি দেন যে, কোম্পানি সবসময় তার আইনগত বাধ্যবাধকতা পরিপালনের ব্যাপারে সচেষ্ট ছিলো। অতএব, কোম্পানিজ অ্যাক্টের ৮২ ধারার অধীনে কোনো দণ্ডমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত নয়। আরও উপস্থাপন করা হয় যে, কোম্পানিজ অ্যাক্টের তফসিল ১-এর বিধি ৯০ অনুযায়ী, একজন একমাত্র পরিচালকের ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত। তার ক্ষমতা মূলত পরিচালকের সংখ্যা বৃদ্ধি করা অথবা সাধারণ সভা আহ্বানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ফলে বাস্তবে কোম্পানির কার্যকর অভ্যন্তরীণ পরিচালনা ব্যবস্থা বজায় রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। আবেদনকারীর আইনজীবী আরও উল্লেখ করেন যে, একজন মাত্র পরিচালক কর্তৃক প্রস্তুতকৃত বা গৃহীত নথি, ফাইলিং এবং রেজ্যুলেশন Registrar of Joint Stock Companies (RJSC)-এর নিকট গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হওয়ার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেয়। এর ফলে আদালতের সহায়তা ছাড়া কোম্পানির আইনগত বাধ্যবাধকতা বাস্তবে যথাযথভাবে পরিপালন করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। সুতরাং, আবেদনকারীর পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয় যে, কোম্পানিজ অ্যাক্টের ৮৫(৩) ধারা প্রয়োগ করে আদালত প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা ও কার্যক্রমকে আইনানুগ অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য হস্তক্ষেপ করতে পারেন, সভা অনুষ্ঠানের নির্দেশ দিতে পারেন এবং কোম্পানির যথাযথ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক (ancillary) আদেশ জারি করতে পারেন।
বিবাদী পক্ষের যুক্তি :
বিবাদীপক্ষ হতে উপস্থাপন করা হয় যে, একটি কোম্পানির কার্যক্রম অবশ্যই কোম্পানিজ অ্যাক্ট এবং তার Articles of Association-এর বিধান অনুযায়ী কঠোরভাবে পরিচালিত হতে হবে। কেবল প্রশাসনিক অসুবিধার কারণে কর্পোরেট গভর্ন্যান্স বা কোম্পানির পরিচালনাসংক্রান্ত আইনগত প্রয়োজনীয়তাগুলো শিথিল করা যায় না। বিবাদীপক্ষ যুক্তি দেয় যে, আইন দ্বারা নির্ধারিত কোরাম -এর শর্ত পূরণ না হলে একজন মাত্র পরিচালক পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন না। তাছাড়া, কোম্পানিজ অ্যাক্টের তফসিল ১-এর বিধি ৯০ অনুযায়ী, অব্যাহতভাবে দায়িত্ব পালনরত একজন পরিচালকের ক্ষমতা কঠোরভাবে সীমাবদ্ধ। তিনি মূলত পরিচালকের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে অথবা সাধারণ সভা আহ্বান করতে পারেন। বিবাদীপক্ষ আরও বলেন যে, যেকোনো পরিচালক নিয়োগ অবশ্যই আইনের ৯১ ধারার বিধান অনুযায়ী হতে হবে। উক্ত ধারার অধীনে পরিচালকদের কোম্পানির সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হতে হবে এবং কেবল আইন অনুযায়ী যোগ্য ব্যক্তিদেরই পরিচালক হিসেবে নিয়োগ করা যেতে পারে। এছাড়া, প্রতিবাদীপক্ষের বক্তব্য ছিল যে, ৮৫(৩) ধারার অধীনে আদালতের হস্তক্ষেপ একটি ব্যতিক্রমী প্রতিকার (exceptional remedy)। স্বাভাবিক আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সভা আহ্বান, অনুষ্ঠিত বা পরিচালনা করা সত্যিকার অর্থে অসম্ভব হয়ে পড়লেই কেবল এই বিধান প্রয়োগ করা যেতে পারে। অতএব, বিবাদীপক্ষ যুক্তি দেয় যে, কঠোর আইনগত প্রয়োজনীয়তা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কোম্পানির কর্পোরেট গভর্ন্যান্স সংক্রান্ত বিধি ও নিয়ম পাশ কাটানো উচিত নয়।
সিদ্ধান্ত :
আলোচনা ও উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত কোম্পানিজ অ্যাক্ট, ১৯৯৪ -এর বিস্তারিত ব্যাখ্যায় প্রবেশ করেন। বিশেষত, পরিচালনা পর্ষদের কার্যক্রম, কোরাম সংক্রান্ত বিধান এবং কোম্পানিজ অ্যাক্টের ৮৫(৩) ধারার অধীনে আদালতের তত্ত্বাবধানমূলক এখতিয়ার (supervisory jurisdiction) নিয়ে আদালত বিস্তারিত আলোচনা করেন। আদালত নিম্নলিখিত সিদ্ধান্তে উপনীত হন:
- পরিচালকদের মধ্যে কোনো পদ শূন্য হলেও, অবশিষ্ট পরিচালকরা যদি প্রয়োজনীয় কোরাম পূরণ করতে সক্ষম হন, তাহলে তারা কোম্পানির জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের কার্যক্রম ও ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন। তবে, যদি কোরাম পূরণের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক পরিচালক না থাকেন, তাহলে তফসিল ১-এর বিধি ৯০ অনুযায়ী অবশিষ্ট পরিচালক বা পরিচালকদের ক্ষমতা কেবল দুটি উদ্দেশ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। যথা :
(i) পরিচালকের সংখ্যা বৃদ্ধি করা; এবং
(ii) একটি সাধারণ সভা (General Meeting) আহ্বান করা। - ধারা ৮৫(৩) প্রযোজ্য হয় যখন কোনো কোম্পানির পক্ষে কোনো ধরনের সভা আহ্বান করা, সভা অনুষ্ঠিত করা এবং সভার কার্যক্রম পরিচালনা করা অসম্ভব বা অবাস্তব হয়ে পড়ে; অথবা উক্ত তিনটি কাজের মধ্যে যেকোনো দুটি সম্পাদন করা অসম্ভব বা অবাস্তব হয়; কিংবা উক্ত তিনটি কাজের মধ্যে কোনো একটি কাজ সম্পাদন করাও অসম্ভব বা অবাস্তব হয়। কোনো আবেদনকারী (Petitioner) কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ধারা ৮৫(৩) প্রয়োগ করে আদালতের শরণাপন্ন হলে এবং আদালত উপরোক্ত শর্তসমূহ বিদ্যমান রয়েছে বলে সন্তুষ্ট হলে, আদালত প্রয়োজনীয় আদেশ ও নির্দেশ জারি করার ক্ষমতা লাভ করে। এ ধরনের আদেশ শুধু কোম্পানির জন্যই বাধ্যতামূলক নয়; বরং RJSC, BSEC, বাংলাদেশ ব্যাংক, Financial Regulation Council এবং দেশের অন্যান্য সকল রাষ্ট্রীয় কার্যনির্বাহী কর্তৃপক্ষ ও আইনগত সংস্থার জন্যও বাধ্যতামূলক।
- আমাদের দেশের আইনের শ্রেণিবিন্যাসে Act of Parliament-এর মর্যাদা যেকোনো বিধির চেয়ে উচ্চতর। সাধারণত, একটি Act of Parliament-এর শেষাংশে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিধিবদ্ধ সংস্থাকে প্রয়োজনীয় বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা প্রদান করা হয়। তবে কোনো বিধি যদি সংসদ নিজেই সরাসরি প্রণয়ন ও অনুমোদন করে এবং সেটিকে উক্ত আইনের একটি তফসিল হিসেবে সংযুক্ত করে, তাহলে সেই বিধি সংশ্লিষ্ট আইনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়। ফলে, এর আইনগত মর্যাদা ও কার্যকারিতা Act of Parliament-এর সমতুল্য হয়।
- কোম্পানি আইন-এর তফসিল ১-এর কোনো বিধি সংশোধন, পরিবর্তন বা বাদ না দেওয়া হলে, অথবা কোনো কোম্পানির Articles of Association-এ একই ধরনের বিধান অন্তর্ভুক্ত না থাকলে, তফসিল ১-এ অন্তর্ভুক্ত বিধি কোম্পানিটির ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রযোজ্য হবে। এর কারণ হলো, উক্ত বিধি-তে ‘shall’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে, যা বাধ্যতামূলক প্রয়োগ নির্দেশ করে।
- কোম্পানিজ অ্যাক্টের ধারা ৯১(১) একটি কোম্পানির Articles of Association-এর বিধানকে অগ্রাহ্য করার ক্ষমতা রাখে। অতএব, তফসিল ১-এর বিধি ৯০ যেহেতু কোম্পানির Articles-এর অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়, তাই সেটি কোম্পানিজ অ্যাক্টেে ধারা ৯১(১) এর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হলে বিধি ৯০ প্রযোজ্য হবে না। কোম্পানিজ অ্যাক্টের ধারা ৯১(১)(খ) অনুযায়ী, কোম্পানির পরিচালকগণ একটি সাধারণ সভায় কোম্পানির সদস্যদের দ্বারা তাদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হতে হবে। অন্যদিকে, ধারা ৯১(১)(গ) অনুযায়ী, কোনো casual vacancy সৃষ্টি হলে তা বোর্ড মিটিং এর মাধ্যমে পরিচালকরা পূরণ করতে পারেন এবং এর জন্য সাধারণ সভার প্রয়োজন হয় না। তবে এ ক্ষেত্রে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ধারা ৯১(১)(খ) এর অধীনে পরিচালক হওয়ার যোগ্য ব্যক্তি হতে হবে। সুতরাং, কোনো কোম্পানিতে যদি মাত্র একজন পরিচালক অবশিষ্ট থাকেন, তাহলে সেই একমাত্র পরিচালক কোম্পানির সদস্যদের মধ্য থেকে একজন বা একাধিক ব্যক্তিকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ করতে পারবেন, যদি তারা আইন অনুযায়ী পরিচালক হওয়ার জন্য যোগ্য হন।
- কোনো পরিচালকের মৃত্যু বা পদত্যাগের কারণে যদি কোম্পানিতে মাত্র একজন পরিচালক অবশিষ্ট থাকেন, কিন্তু কোম্পানির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে এমন ব্যক্তি থাকেন যারা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে ইচ্ছুক, তাহলে একমাত্র অবশিষ্ট পরিচালক দুটি বিকল্পের যেকোনো একটি গ্রহণ করতে পারবেন। প্রথমত, তিনি কোম্পানিজ অ্যাক্টের তফসিল ১ এর বিধি ৯০ এ প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে পরিচালকের সংখ্যা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে একটি বোর্ড মিটিং আহ্বান ও অনুষ্ঠিত করতে পারবেন। অথবা, দ্বিতীয়ত, তিনি কোম্পানিজ অ্যাক্টের ধারা ৮৫(৩) এর বিধান প্রয়োগ করে উপযুক্ত প্রতিকার চেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হতে পারবেন। তবে, কোনো পরিচালক/পরিচালকের মৃত্যু বা পদত্যাগের কারণে যদি মাত্র একজন পরিচালক অবশিষ্ট থাকেন এবং কোম্পানির অন্য কোনো সদস্যই যদি কোম্পানির পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার যোগ্য বা উপলব্ধ না থাকেন, তাহলে অবশিষ্ট পরিচালক বিধি ৯০-এর অধীনে কার্যক্রম গ্রহণ করতে পারবেন না। এ অবস্থায় তাকে কোম্পানিজ অ্যাক্টের ধারা ৮৫(৩)-এর অধীনে আদালতের শরণাপন্ন হতে হবে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে একমাত্র পরিচালক যদি কোম্পানিজ অ্যাক্টের ধারা ৮৫(৩) এর আহ্বান করে আদালতের শরণাপন্ন হন, তাহলে আদালত একজন মাত্র পরিচালকের সভা আহ্বান, অনুষ্ঠিত ও পরিচালনার নির্দেশ দিতে পারেন। সেই সভায় আদালত নিম্নলিখিত যেকোনো নির্দেশ দিতে পারেন:
(ক) কোম্পানিজ অ্যাক্টের ধারা ৯১(১)(গ), তফসিল ১-এর বিধি ৮৫, অথবা কোম্পানির Articles of Association-এর অনুচ্ছেদ ২৮ অনুযায়ী কোম্পানির অন্যান্য সদস্যদের মধ্য থেকে নতুন পরিচালক নিয়োগের জন্য বোর্ড মিটিং-এ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারেন;
অথবা
(খ) নতুন পরিচালক নির্বাচনের উদ্দেশ্যে একটি সাধারণ সভা আহ্বান, অনুষ্ঠিত ও পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় রেজোলিউশন গ্রহণের নির্দেশ দিতে পারেন।
সংশ্লিষ্ট আইন :
- কোম্পানিজ অ্যাক্ট, ১৯৯৪
- ধারা: ৫, ১৮, ১৮(২), ৮২, ৮৫(৩), ৯০(১), ৯০(২), ৯০(৩), ৯১(১)(ক), ৯১(১)(খ), ৯১(১)(গ), ৯৭(১), ৩৯৬
- তফসিল ১, বিধি ৯০
অনুবাদক :
১. মো. আতিকুর রহমান
[সতর্কতা : উক্ত মামলার বাংলা সংস্করণটি মূল ইংরেজি হতে অনূদিত। অর্থগত সামঞ্জস্যতা বজায় রাখার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করা হয়েছে। কোনো প্রকার অসামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হলে, মূল ইংরেজি সংস্করণ প্রাধান্য পাবে।]
নোট : The Case Summary আইনের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং আইনের শিক্ষার্থীদের দ্বারা তৈরি একটি প্ল্যাটফর্ম। আমরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নির্ভুলভাবে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার ঘটনা ও রায় তুলে ধরার চেষ্টা করি। এই প্ল্যাটফর্মটি কখনোই পূর্ণাঙ্গ আইনের ধারণা প্রদান করে না, আমরা শিক্ষার্থীদের শুধু মাত্র মামলার সারাংশ নির্ভর হওয়াকে নিরুৎসাহিত করি। ধন্যবাদ