মোঃ সাইফুজ্জামান বনাম রাষ্ট্র (২০০৩)

Md. Saifuzzaman vs. State and Ors. (2003)

মোঃ সাইফুজ্জামান বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য

সাইটেশন : 56 DLR (2004) 324

জুরিসডিকশন : বাংলাদেশ

আপিলকারী : মোঃ সাইফুজ্জামান
বিবাদী : বাংলাদেশ ও অন্যান্য

পটভূমি :

উক্ত মামলাটি নিম্ন আদালতের কোনো সাধারণ আপিল বিষয়ক না। বরং একই ঘটনাপ্রবাহ থেকে উদ্ভূত আটক ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করার (writ) আবেদনসংক্রান্ত দুটি Rule, যা একত্রে শুনানি করে একটি মাত্র রায়ের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়। মামলার প্রক্রিয়াগত ধারাবাহিকতা নিম্নরূপ :

আটক ব্যক্তিদের ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০২ তারিখে ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC)-এর ধারা ৫৪ এর অধীনে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট সোপর্দ করা হয়। পরবর্তীতে, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০০২ তারিখে তাদের বিরুদ্ধে নিবর্তনমূলক আটক (preventive detention)-এর আদেশ জারি করা হয়। তারা Criminal Miscellaneous Case Nos. 2400 এবং 2405 of 2002 এর মাধ্যমে ওই আটকাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন। ২৩ মার্চ ২০০২ তারিখে প্রদত্ত রায়ে হাইকোর্ট বিভাগ আটকাদেশ গুলোকে অবৈধ ঘোষণা করেন এবং তাদের মুক্তির নির্দেশ প্রদান করেন। কিন্তু সেই মুক্তির নির্দেশ কার্যকর হওয়ার আগেই পুলিশ ধারাবাহিকভাবে তাদের রমনা, ধানমন্ডি, ডেমরা, মোহাম্মদপুর এবং তেজগাঁও থানার বিভিন্ন মুলতবি মামলায় “গ্রেপ্তার দেখায়” (shown arrested)। প্রতিবারই তাদের বিরুদ্ধে নতুন করে রিমান্ডের আদেশ চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট থেকে নেওয়া হয়। এ সময়ে কিছু ক্ষেত্রে দায়রা জজ তাদের জামিনও মঞ্জুর করেন। পরবর্তীতে, আটক ব্যক্তিরা পুনরায় হাইকোর্ট বিভাগের শরণাপন্ন হন এবং Criminal Miscellaneous Case Nos. 9145 এবং 9146 of 2002-এ দুটি Rule জারি করাতে সক্ষম হন। এই দুটি Rule-ই বর্তমান রায়ের বিষয়বস্তু। এসব Rule-এর মাধ্যমে ‘কেন আটক ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করে আইনানুগভাবে তাদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান করা হবে না’ এইমর্মে বিবাদীপক্ষকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

ঘটনা :

উক্ত মামলার আটক ব্যক্তিদ্বয় হলেন লিয়াকত সিকদার, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি, এবং মো. রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। তারা উভয়েই ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন এবং রাজনৈতিক বিভিন্ন আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০২ তারিখে তাদের ধানমন্ডির সুধা সদনের সামনে থেকে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪-এর অধীনে একটি সাধারণ ডায়েরি (General Diary বা GD)-এর ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে, যে জিডির ভিত্তিতে তাদের প্রথমে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, সেটি ৩০ মার্চ ২০০২ তারিখে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক আনুষ্ঠানিকভাবে খারিজ (dropped) করা হয়। ফলে, উক্ত তারিখের পর থেকে জিডিটি তাদের হেফাজতে রাখার আইনগত ভিত্তি হিসেবে আর বিদ্যমান ছিল না।

কিন্তু তা সত্ত্বেও, এবং এর আগেই হাইকোর্ট বিভাগ তাদের আটককে অবৈধ ঘোষণা করে মুক্তির নির্দেশ প্রদান করলেও, পুলিশ তাদের ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন পূর্বে দায়েরকৃত মামলায় “গ্রেপ্তার দেখিয়ে” হেফাজতে রাখে। এসব মামলার মধ্যে ছিল: ধানমন্ডি থানা মামলা নং ৭১, রমনা থানা মামলা নং ২৬(২)/০২, রমনা থানা মামলা নং ৫৭, ডেমরা থানা মামলা নং ৭৬, মোহাম্মদপুর থানা মামলা নং ৩৮ এবং তেজগাঁও থানা মামলা নং ৯৮। এভাবে মার্চ থেকে আগস্ট ২০০২ পর্যন্ত তাদের ধারাবাহিকভাবে আটক রাখা হয়। প্রতিটি ক্ষেত্রে পুলিশ কেবল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট আবেদন করে যে, সংশ্লিষ্ট মামলায় আটক ব্যক্তিদের “গ্রেপ্তার দেখানো” হোক। চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেই আবেদন মঞ্জুর করে তাদের পুনরায় হেফাজতে পাঠাতেন। পরে প্রতিটি মামলায় পৃথকভাবে দায়রা জজ তাদের জামিন মঞ্জুর করলেও, মুক্তি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ পরবর্তী মামলায় আবার তাদের গ্রেপ্তার দেখাতো। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব ধারাবাহিক রিমান্ডের আদেশ প্রদানের সময় আটক ব্যক্তিদের কখনোই আদালতে সশরীরে হাজির করা হয়নি। একই সঙ্গে, তাদের সংশ্লিষ্ট মামলায় সম্পৃক্ততার প্রাথমিক ভিত্তি প্রমাণ করে এমন কোনো কেস ডায়েরি বা তদন্ত-সংক্রান্ত নথিপত্রও চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি।

রাষ্ট্রপক্ষ আটক ব্যক্তিদের আবেদনে উত্থাপিত কোনো তথ্য অস্বীকার করে কোনো পাল্টা হলফনামা (counter-affidavit) দাখিল করেনি। তদুপরি, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলও আবেদনে বর্ণিত ঘটনাবলির সত্যতা নিয়ে কোনো বিরোধিতা করেননি। এসব প্রেক্ষাপটে আটক ব্যক্তিরা বর্তমান হেবিয়াস করপাস (Habeas Corpus) সংক্রান্ত Rule-এর জন্য হাইকোর্ট বিভাগের শরণাপন্ন হন।

ইস্যু :
 ১. ফৌজদারি কার্যবিধির (CrPC) বিধান অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের আদালতে উপস্থিত না রেখেই শুধু পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে একজন ম্যাজিস্ট্রেট বিভিন্ন মামলায় তাদের হেফাজতে রাখার আদেশ দিতে পারেন কি না।
২. CrPC-এর ধারা ৫৪ কি কোনো পুলিশ কর্মকর্তাকে এমন উদ্দেশ্যে কাউকে গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা প্রদান করে, যাতে তাকে নিবর্তনমূলক আটক (preventive detention)-এ রাখা যায় বা ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে হেফাজতে রাখা যায়, নাকি এই ধারা কেবল এতে বর্ণিত নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যেই গ্রেপ্তারের ক্ষমতা প্রদান করে?
৩. CrPC-এর ধারা ১৬৭ অনুযায়ী কোনো ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক হেফাজতের আদেশ প্রদানের পূর্বশর্ত হিসেবে একটি নিয়মিত মামলা (FIR বা মামলা) রুজু হওয়া বাধ্যতামূলক কি না।
৪. সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে সশরীরে উপস্থিত করা এবং ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক তাকে তার অধিকার ও পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করা- পরবর্তী হেফাজতের আদেশকে বৈধ করার জন্য একটি আবশ্যিক সাংবিধানিক শর্ত কি না।

যুক্তিতর্ক :

আপিলকারী পক্ষের যুক্তি:
আটক ব্যক্তিদের (detenus) পক্ষে উপস্থিত ব্যারিস্টার তানিয়া আমির নিম্নোক্ত যুক্তিসমূহ উপস্থাপন করেন:
১. আটক ব্যক্তিরা কোনো আমলযোগ্য অপরাধে জড়িত ছিলেন বলে বিশ্বাস করার মতো কোনো যৌক্তিক ভিত্তি না থাকা সত্ত্বেও, তাদের আটক রাখার উদ্দেশ্যে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা ব্যবহার করা এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন মামলায় বারবার তাদের গ্রেপ্তার দেখানো ছিল সম্পূর্ণ অননুমোদিত, আইনগত ক্ষমতার পরিপন্থি এবং বেআইনি।
২. বিভিন্ন মামলায় আটক ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার দাবি করে পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতেই, মামলার ডায়েরিতে (case diary) বিদ্যমান প্রাথমিক (prima facie) উপকরণ সম্পর্কে নিজে সন্তুষ্ট না হয়ে ম্যাজিস্ট্রেট যে তাদের বিচারিক হেফাজতে (judicial custody) প্রেরণের আদেশ প্রদান করেন, তা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৭ ধারার পরিপন্থি। এসব রিমান্ড আদেশ কোনো বিচারিক বিবেচনা (judicial mind) প্রয়োগ না করেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রদান করা হয়েছে। অতএব, ন্যায়বিচারের স্বার্থে এসব আদেশ বাতিল করা উচিত।
৩. তিনি ‘বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) ও অন্যান্য বনাম বাংলাদেশ ও অন্যান্য (55 DLR 363)‘ মামলাটি উল্লেখ করে যুক্তি উপস্থাপন করেন যে, শুধু ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় প্রদত্ত গ্রেপ্তারের ক্ষমতা প্রয়োগ করে কোনো ব্যক্তিকে নিবর্তনমূলক আটক-এ রাখা যায় না। কারণ, ৫৪ ধারা কেবল একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা প্রদান করে; অপরদিকে, নিবর্তনমূলক আটকাদেশ কেবল সরকার, জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অথবা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট প্রদান করতে পারেন, এবং সেটি তখনই পারেন যখন তাঁরা সন্তুষ্ট হন যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ২(ফ) ধারায় বর্ণিত ‘রাষ্ট্র বা জনস্বার্থবিরোধী কার্যকলাপে (prejudicial activities)’ লিপ্ত হয়েছেন।

আটক ব্যক্তিদের পক্ষে বিজ্ঞ আইনজীবী জনাব মো. আমিরুল ইসলাম যুক্তি উপস্থাপন করেন। 
১. তিনি আটক ব্যক্তিদের প্রতি পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহার (police excesses) এবং তাদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। তিনি যুক্তি দেন যে, আইনের বিধান ব্যতীত কোনো ব্যক্তির জীবন, স্বাধীনতা, দেহ বা সুনামের জন্য ক্ষতিকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় না। কিন্তু আটক ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের কোনো পর্যায়েই পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারের কারণ অবহিত করেনি। ফলে তারা সংবিধান প্রদত্ত আইনের আশ্রয় ও সুরক্ষা (protection of law) থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।।
২. তিনি আরও যুক্তি দেন যে, পুলিশ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪ এবং বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ধারা ৩-কে কেবল আটক ব্যক্তিদের হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। যখন এই পদ্ধতিগুলো তাদের উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থ হয়, তখন আটক ব্যক্তিদের একের পর এক সম্পূর্ণ অসংশ্লিষ্ট মামলায় “গ্রেপ্তার দেখানো” হয়। অথচ তাদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে তা কখনোই জানানো হয়নি। এমনকি, যে ম্যাজিস্ট্রেট তাদের হেফাজতের আদেশ দিয়েছেন, তিনিও জানতেন না কোন অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি সেই আদেশ প্রদান করছেন। তিনি যুক্তি দেন, যদি এ ধরনের প্রক্রিয়াকে বৈধতা দেওয়া হয়, তবে আটক ব্যক্তিদের হয়রানির কোনো শেষ থাকবে না। একের পর এক অসংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের অনির্দিষ্টকাল কারাগারে আটকে রাখা সম্ভব হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ধরনের কার্যকলাপ শুধু নিন্দনীয়ই নয়, বরং সংবিধানের ২৭, ৩১, ৩২ ও ৩৩ অনুচ্ছেদেরও সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
৩. তিনি বিভিন্ন মামলার অর্ডার শিট (order sheet)-এর প্রতি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, রিমান্ডের আবেদন (remand prayer) শুনানির সময় কোনো ক্ষেত্রেই আটক ব্যক্তিদের আদালতে সশরীরে উপস্থিত করা হয়নি। ফলে, তারা নিজেদের পছন্দের আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করার এবং তার মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থনের সাংবিধানিক ও আইনগত অধিকার থেকে সম্পূর্ণরূপে বঞ্চিত হয়েছেন।
৪. তিনি আরও বলেন, পুলিশের ধারাবাহিক রিমান্ড আবেদনসমূহ ছিল অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত (mala fide) কৌশল, যার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল আটক ব্যক্তিদের মুক্তির নির্দেশ প্রদানকারী হাইকোর্ট বিভাগের পূর্ববর্তী আদেশকে কার্যকর হতে বাধাগ্রস্ত করা। তিনি এই প্রক্রিয়াকে এমন একটি “অন্তহীন সাপ-লুডু (never-ending game of snakes and ladders)”-এর সঙ্গে তুলনা করেন, যেখানে ব্যক্তিস্বাধীনতা বারবার বাধাগ্রস্ত হয়। তাঁর মতে, এ ধরনের প্রক্রিয়া আইনের শাসনের কোনো প্রক্রিয়াগত (procedural) বা বস্তুগত (substantive) মানদণ্ড পূরণ করে না; এমনকি “যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া (due process)”-এর মৌলিক নীতির সঙ্গেও সম্পূর্ণ অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
৫. সর্বশেষে তিনি যুক্তি দেন যে, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক পুলিশের ধারাবাহিক আবেদনসমূহ মঞ্জুর করার আদেশগুলো কেবল স্বয়ংক্রিয়ই (mechanical) ছিল না; বরং সেগুলো ছিল ক্ষমতার ছলনামূলক বা আপাত বৈধ ব্যবহার (colourable exercise of power)। ফলে, আইন ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে উক্ত আদেশসমূহ বাতিল (quash) করা উচিত।

বিবাদীপক্ষের যুক্তি:
রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে বিজ্ঞ অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতে নিম্নোক্ত যুক্তিসমূহ উপস্থাপন করেন:
১. তিনি যুক্তি দেন যে, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো আমলযোগ্য অপরাধে জড়িত থাকেন, তাহলে ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪-এর অধীনে তাকে গ্রেপ্তার করার জন্য একজন পুলিশ কর্মকর্তার একটি অবিচ্ছেদ্য (inalienable) আইনগত ক্ষমতা রয়েছে।
২. তিনি আরও যুক্তি দেন যে, তদন্ত চলাকালে যদি কোনো মামলায় কোনো আটক ব্যক্তির সম্পৃক্ততা (complicity) উদ্‌ঘাটিত হয়, তাহলে তদন্তকারী কর্মকর্তার ক্ষমতা রয়েছে তাকে উক্ত মামলায় আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার। তার বক্তব্য ছিল, বর্তমান মামলাতেও আইনানুগভাবেই এমনটি করা হয়েছে। কারণ, তদন্তকারী কর্মকর্তাদের অনুসন্ধানে আটক ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে সম্পৃক্ততা প্রকাশ পেয়েছিল এবং সেই অনুযায়ী তাদের উক্ত মামলাগুলোতে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
৩. তিনি আরও যুক্তি দেন যে, সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে আটক ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সন্তুষ্ট হওয়ার পর বিজ্ঞ ম্যাজিস্ট্রেট ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬৭-এর অধীনে প্রদত্ত ক্ষমতা যথাযথভাবে প্রয়োগ করে পুলিশি আবেদন মঞ্জুর করেছেন। অতএব, এসব আদেশকে বেআইনি বা অবৈধ বলা যায় না। তিনি বলেন, ধারা ১৬৭ অনুযায়ী তদন্তকারী কর্মকর্তাদের আবেদনের ভিত্তিতে ম্যাজিস্ট্রেট প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদানের জন্য আইনগতভাবে বাধ্য। এই যুক্তির সমর্থনে তিনি ‘আফতাবুর রহমান @ জঙ্গী বনাম রাষ্ট্র (45 DLR 593)’ মামলা উল্লেখ করেন।

সিদ্ধান্ত :

আদালত রুলগুলোকে চূড়ান্ত বলে ঘোষণা করেন। আদালত রায় দেন যে, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রদত্ত ধারাবাহিক রিমান্ডের আদেশসমূহ স্বেচ্ছাচারী (arbitrary), অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত (mala fide) এবং এখতিয়ার বহির্ভূত (without jurisdiction) ছিল। ফলে, আদালত উক্ত আদেশসমূহ বাতিল (set aside) করেন। আদালত আরও রায় দেন যে, ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬৭-এর অধীনে কোনো ব্যক্তিকে হেফাজতে রাখার আদেশ আইনগতভাবে প্রদান করা যাবে না, যদি না প্রথমে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা রুজু করা হয়। অর্থাৎ, মামলা রুজু হওয়া এ ধরনের হেফাজতের আদেশ প্রদানের জন্য একটি অপরিহার্য পূর্বশর্ত (sine qua non)। আদালত বলেন, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে হেফাজতে (পুলিশি বা বিচারিক) প্রেরণের কোনো আদেশ দেওয়ার পূর্বে অবশ্যই ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে সশরীরে উপস্থিত করতে হবে। অভিযুক্তকে আদালতে উপস্থিত না করে এবং কেস ডায়েরির নথিপত্র উপস্থাপন না করে যান্ত্রিকভাবে প্রদত্ত রিমান্ডের আদেশ ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬৭ এবং সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদের শর্ত পূরণ করে না আদালত বলেন, পুলিশ ধারা ৫৪-কে এমন কোনো পার্শ্ববর্তী (collateral) উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারে না, যেমন নিবর্তনমূলক আটকের ভিত্তি সৃষ্টি করা অথবা গ্রেপ্তারের মূল ভিত্তি (এ মামলায়, জিডি এন্ট্রি) বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার পরও একের পর এক অসংশ্লিষ্ট মুলতবি মামলায় জড়িয়ে কোনো ব্যক্তিকে অব্যাহতভাবে হেফাজতে রাখা। আদালত বিশেষভাবে ছয়টি রিমান্ডের আদেশ বাতিল করেন, যেগুলোর মাধ্যমে আটক ব্যক্তিদের ধারাবাহিকভাবে হেফাজতে রাখা হয়েছিল।

পরিশেষে, আটক ব্যক্তি লিয়াকত সিকদার এবং মো. রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল-কে তাদের জামিন বন্ড (bail bonds) থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। মামলাটির নিষ্পত্তি করা ছাড়াও, আদালত, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪, ৬০, ৬১ ও ১৬৭ ধারা এবং সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদের অধীনে, গ্রেপ্তারের সকল ক্ষেত্রে অনুসরণীয় কিছু বাধ্যতামূলক নির্দেশিকা জারি করেন-

  1. অবিলম্বে পুলিশকে একটি গ্রেপ্তারের স্মারকলিপি প্রস্তুত করতে হবে, যা গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি কর্তৃক তারিখ ও গ্রেপ্তারের সময়সহ স্বাক্ষরিত হবে।
  2. গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির দ্বারা প্রস্তাবিত কোনো আত্মীয় বা বন্ধুকে গ্রেপ্তারের তথ্য, অবস্থান এবং আটক রাখার বিষয়ে ৬ ঘণ্টার মধ্যে অবশ্যই অবহিত করতে হবে।
  3. ডায়েরিতে গ্রেপ্তারের কারণ, তথ্যদাতা/অভিযোগকারীর বিবরণ, অবহিত আত্মীয়/বন্ধুর বিবরণ এবং হেফাজতকারী কর্মকর্তার বিবরণ অবশ্যই লিপিবদ্ধ করতে হবে। 
  4. ধারা ১৬৭ অনুযায়ী গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে হাজির করার সময় গ্রেপ্তারের স্মারকলিপি, অভিযোগের অনুলিপি এবং ডায়েরির এন্ট্রি অবশ্যই ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠাতে হবে।
  5. পুলিশি রিমান্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর, পরবর্তী কোনো হেফাজতের আদেশ দেওয়ার আগে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হবে।
  6. ধারা ১৬৭(২) অনুযায়ী পুলিশি বা বিচারিক হেফাজতে নেওয়ার আগে মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করতে হবে।
  7. যদি ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ডায়েরির এন্ট্রি পেশ করা না হয়, তবে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিকে ১৬৯ ধারা অনুযায়ী জামিনে মুক্তি দিতে হবে।
  8. প্রাসঙ্গিক ডায়েরির এন্ট্রি উপস্থাপন করা না হলে, একজন ম্যাজিস্ট্রেট ইতোমধ্যে হেফাজতে থাকা ব্যক্তিকে কোনো নতুন মামলায় “গ্রেপ্তার দেখানোর” আদেশ দিতে পারবে না।
  9. যদি কোনো তদন্ত ১৫ দিনের বেশি অতিক্রান্ত হয়, তবে উপযুক্ত ম্যাজিস্ট্রেট ৩৪৪ ধারা অনুযায়ী একবারে সর্বোচ্চ ১৫ দিন পর্যন্ত রিমান্ডের মেয়াদ বাড়াতে পারবেন।
  10. যদি প্রেরিত রিপোর্ট অনুযায়ী প্রকাশিত হয় যে গ্রেপ্তারটি “নিবর্তনমূলক আটক”-এর উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল, তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট বিচারিক হেফাজতের আদেশ দিতে পারবেন না।
  11. ধারা ১৬৭ এর অধীনে কোনো আদেশ দেওয়ার আগে ম্যাজিস্ট্রেটকে অবশ্যই উপরোল্লিখিত সবগুলো বিধি যাচাই করতে হবে।

আদালতের যুক্তি :

  1. মামলার মূল ইস্যুটিকে আদালত এভাবে নির্ধারণ করেন যে, “অভিযুক্তকে হাজির করা ছাড়াই, শুধুমাত্র পুলিশের অনুরোধে আটকের আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা ফৌজদারি কার্যবিধি ম্যাজিস্ট্রেটদেরকে দেয় কিনা, এবং ৫৪ ধারাটি নির্বতনমূলক আটকের মতো আনুষঙ্গিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যায় কিনা।” এ প্রসঙ্গে আদালত ভারতের সুপ্রিম কোর্টের সেই পর্যবেক্ষণের উল্লেখ করেন, যেখানে এ ধরনের ক্ষমতার অপব্যবহারকে “রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস (state terrorism)” হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে, প্রকৃত সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার কোনো গ্রহণযোগ্য উত্তর এটি হতে পারে না।
  2. আদালত রায় দেন যে, ধারা ৫৪-এর অধীনে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা বিস্তৃত হলেও, তা প্রয়োগের জন্য অবশ্যই বিশ্বাসযোগ্য তথ্য (credible information) অথবা যুক্তিসংগত সন্দেহ (reasonable suspicion) থাকতে হবে, যা সুনির্দিষ্ট ও নির্দিষ্ট তথ্যের (definite facts) ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হবে। কেবল অস্পষ্ট অনুমান (vague surmise) বা ভিত্তিহীন সন্দেহের ওপর নির্ভর করে ধারা ৫৪-এর ক্ষমতা প্রয়োগ করা আইনসম্মত নয়।
  3. আদালত বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৬০ ও ৬১ অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে উপস্থিত করতে হবে। অন্যথায়, ধারা ১৬৯ অনুযায়ী তাকে মুক্তি দিতে হবে। আদালত সংবিধানের ৩৩(১) ও ৩৩(২) অনুচ্ছেদ সম্পূর্ণভাবে উদ্ধৃত করে বলেন যে, এগুলো ব্যক্তিস্বাধীনতার সর্বজনস্বীকৃত সাংবিধানিক সুরক্ষা প্রদান করে এবং এগুলো সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের সঙ্গেও সম্পর্কযুক্ত। আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করেন যে, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ ভারতের সংবিধানের ২২ অনুচ্ছেদের (Article 22) সমপর্যায়ের (in pari materia)। এ প্রসঙ্গে আদালত ড. বি. আর. আম্বেদকরের গণপরিষদে (Constituent Assembly) প্রদত্ত বক্তব্য উদ্ধৃত করেন, যেখানে তিনি ব্যাখ্যা করেছিলেন, কেন এ ধরনের মৌলিক সুরক্ষাগুলোকে সাধারণ আইনের ওপর নির্ভর না রেখে সংবিধানেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
  4. আদালত মালয়েশিয়ার ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ২৩, ২৪, ২৭, ১৫, ১৯, ২৫ ও ২৮-এর উল্লেখ করেন। আদালত পর্যবেক্ষণ করেন যে, বাংলাদেশের ফৌজদারি কার্যবিধিতে ভারতের ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫০, ৫৩ ও ৫৪-এর সমতুল্য কোনো বিধান নেই, যেখানে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে জামিনের অধিকার সম্পর্কে অবহিত করা এবং চিকিৎসা পরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার বিধান রয়েছে।
  5. আদালত রায় দেন যে, ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬৭(২) অনুযায়ী তদন্ত চলাকালে একজন ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ১৫ দিন পর্যন্ত হেফাজতে রাখা যেতে পারে। অপরদিকে, ধারা ৩৪৪-এর অধীনে আরও রিমান্ড মঞ্জুর করা গেলেও, তা শুধু কারা হেফাজতে (jail custody) হতে পারে এবং এ ধরনের আদেশ প্রদানের জন্য ধারা ৩৪৪-এর ব্যাখ্যা অনুযায়ী “যথেষ্ট প্রমাণ (sufficient evidence)” বিদ্যমান থাকতে হবে।
  6. আদালত ‘মকবুল হোসেন বনাম বাংলাদেশ সরকার (54 DLR 118)’ মামলায় গৃহীত অবস্থান, যেখানে ধারা ৫৪-এর অধীনে গ্রেপ্তারের পর প্রতিরোধমূলক আটককে বৈধ বলা হয়েছিল, এবং পরবর্তীকালে একই বিচারকের প্রদত্ত ‘ব্লাস্ট বনাম বাংলাদেশ (55 DLR 363)‘ মামলার সিদ্ধান্ত, যেখানে এ ধরনের গ্রেপ্তারকে “আইনসম্মত নয় এবং অনুমোদনযোগ্যও নয় (neither lawful nor permissible)” বলা হয়েছিল, এই দুই সিদ্ধান্তের মধ্যে ব্লাস্ট মামলার নীতিকেই গ্রহণ করেন। আদালত বিশেষভাবে ব্লাস্ট মামলায় সংবিধানের ৩৩(১) অনুচ্ছেদে ব্যবহৃত “as soon as may be” শব্দগুচ্ছের ব্যাখ্যা গ্রহণ করেন এবং একই সঙ্গে এ সিদ্ধান্তও অনুসরণ করেন যে, ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৪ সংবিধানের সঙ্গে “অসামঞ্জস্যপূর্ণ (inconsistent)”।
  7. আদালত রায় দেন যে, ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬৭(২)-এ ব্যবহৃত “forwarded” শব্দটির অর্থ হলো, রিমান্ডের আবেদনের সময় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে শারীরিকভাবে উপস্থিত করতে হবে। এ বিষয়ে আদালত ‘আফতাবুর রহমান @ জঙ্গী বনাম রাষ্ট্র (45 DLR 593)’ মামলার নজির আমলে নেন, যেখানে ম্যাজিস্ট্রেটদের “পুলিশের অধঃস্থ (subservient to the police)” হিসেবে আচরণ না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান মামলার তথ্যে দেখা যায় যে, পরপর ছয়টি রিমান্ডের কোনোটিতেই আটক ব্যক্তিদের আদালতে উপস্থিত করা হয়নি।
  8. আদালত ৫৪, ১৬৭, বা ৩৪৪ ধারাকে অসাংবিধানিক বলে বাতিল করতে অস্বীকৃতি জানায়। এখানে তারা আইনগত সংস্কারকে প্রাধান্য দেন। আদালত এই ধরনের বাতিল করতে অস্বীকৃতি জানানোর ব্যাপারটিকে ‘নরমাদা বাঁচাও আন্দোলন বনাম ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া (AIR 2000 SC 3751 )’ মামলার সাংবিধানিক ক্ষমতা বিভাজন এবং বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার সীমাবদ্ধতার উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত করেন।
  9. আদালত ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্বাহী বিভাগের উপর নির্ভরতাকে মূল সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং ‘সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয় বনাম মাসদার হোসেন (52 DLR (AD) 82)‘ মামলা ও সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১৫-এর অধীনে একটি স্বাধীন বিচার বিভাগীয় কর্ম কমিশন গঠনের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে এর অবিলম্বে বাস্তবায়নের জন্য আহ্বান জানান।

সংশ্লিষ্ট আইন :

  1. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান
    • অনুচ্ছেদ : ২১, ২২, ২৭, ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৩(১), ৩৩(২), ১১৫
  2. ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ (বাংলাদেশ)
    • ধারা : ৪(১), ৫৪, ৬০, ৬১, ১৫৪, ১৫৬, ১৫৭, ১৬৭, ১৬৭(১), ১৬৭(২), ১৬৮, ১৬৯, ১৭০, ১৭২, ১৭৩, ১৯০(খ), ৩৪০, ৩৪৪, ৪৩৯
  3. বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪

অনুবাদক :
১. মো. আতিকুর রহমান
২. রাইয়ান তালুকদার

নোট : The Case Summary আইনের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং আইনের শিক্ষার্থীদের দ্বারা তৈরি একটি প্ল্যাটফর্ম। আমরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নির্ভুলভাবে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার ঘটনা ও রায় তুলে ধরার চেষ্টা করি। এই প্ল্যাটফর্মটি কখনোই পূর্ণাঙ্গ আইনের ধারণা প্রদান করে না, আমরা শিক্ষার্থীদের শুধু মাত্র মামলার সারাংশ নির্ভর হওয়াকে নিরুৎসাহিত করি। ধন্যবাদ


Cite this Page:

OSCOLA

APA

Bluebook

Share