আবুল হোসেন বনাম রাষ্ট্র (২০০৩)

Abul Hossain vs State (2003)

আবুল হোসেন ও অন্যান্য বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য

সাইটেশন : 56 DLR (2004) 12

জুরিসডিকশন : বাংলাদেশ

আবেদনকারী : আবুল হোসেন ও অন্যান্য
বিবাদী : রাষ্ট্র ও অন্যান্য

ঘটনা :

মামলাটির সূত্রপাত হয় তথ্যদাতার (Informant) দায়েরকৃত একটি অভিযোগের ভিত্তিতে। অভিযোগে বলা হয় যে, আবুল হোসেনসহ অন্য আসামিরা একটি বেআইনি সমাবেশ (unlawful assembly) গঠন করে তথ্যদাতার পিতার ধানক্ষেতে অবৈধভাবে প্রবেশ (criminal trespass) করে। আরও অভিযোগ করা হয় যে, ৩০-১০-১৯৯৬ তারিখে আসামিরা প্রাণঘাতী অস্ত্র নিয়ে এসে ক্ষেতের পাকা ধান কেটে নিয়ে যায়। একই সঙ্গে তারা ভুক্তভোগীদের মারধর করে আহত করে এবং চুরি ও সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের (mischief) ঘটনাও ঘটায়। এই অভিযোগের ভিত্তিতে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ১৪৩, ৪৪৭, ৩২৩, ৩২৪, ৩৭৯, ৩০৭ ও ১১৪ এর অধীনে একটি মামলা রুজু করা হয়। তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (Charge Sheet) দাখিল করেন।

বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ একাধিক সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করলেও, বিচারিক আদালত শেষ পর্যন্ত সকল আসামিকে খালাস প্রদান করেন। এতে সংক্ষুব্ধ হয়ে তথ্যদাতা ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৪৩৯ক ধারার অধীনে একটি রিভিশন আবেদন দায়ের করেন। উক্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে রিভিশনাল আদালত খালাসের রায় বাতিল করেন এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ যথাযথভাবে মূল্যায়নের মাধ্যমে নতুন করে রায় প্রদানের জন্য বিচারিক আদালতকে নির্দেশ দেন।

পরবর্তীতে অভিযুক্ত-পিটিশনারগণ রিভিশনাল আদালতের আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ৫৬১ক ধারার অধীনে উচ্চ আদালতে একটি আবেদন করেন।

ইস্যু :
১. রিভিশনাল আদালত কর্তৃক খালাসের রায় বাতিল করা আইনসংগত ও ন্যায়সংগত ছিল কি না।
২. বিচারিক আদালতকে নতুন করে রায় (Fresh Judgment) লেখার নির্দেশ প্রদান করতে রিভিশনাল আদালত আইনগতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ছিলেন কি না।
৩. বিচারিক আদালত তার রায় প্রদানের ক্ষেত্রে মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ যথাযথভাবে মূল্যায়ন ও বিবেচনা করেছিলেন কি না।

সিদ্ধান্ত :

রিভিশনাল আদালত খালাসের আদেশ বাতিল করে বিচারিক আদালতকে নতুন করে রায় লেখার নির্দেশ প্রদান করে আইনানুগভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন কি না, বিষয়টা উচ্চ আদালত পর্যালোচনা করেন। মামলার সমগ্র নথিপত্র পর্যালোচনার পর আদালত দেখতে পান যে, বিচারিক আদালত সাক্ষীদের সাক্ষ্য যথাযথভাবে আলোচনা ও মূল্যায়ন করেননি এবং বিবেচ্য বিতর্কিত বিষয়সমূহ (facts in issue) নির্ধারণে ব্যর্থ হয়েছেন। একইসাথে, বিচারিক আদালতের রায়টি ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ধারা ৩৬৭-এর বিধানসমূহ অনুসরণ করে প্রদান করা হয়নি; ফলে আইনগত দৃষ্টিতে তা একটি যথাযথ রায় হিসেবে গণ্য হতে পারে না। আদালত আরও জানান যে, ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৪৩৯ক, ধারা ৪২৩ ও ৪৩৯-এর সঙ্গে পাঠ করলে প্রতীয়মান হয় যে, রিভিশনাল আদালত উপযুক্ত ক্ষেত্রে খালাসের আদেশ বাতিল করে পুনর্বিচার (re-trial) অথবা নতুন করে রায় (fresh judgment) প্রদানের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন, তবে সেই ক্ষমতা অবশ্যই আইনি বিচক্ষণতার সঙ্গে (judiciously) প্রয়োগ করতে হবে। বর্তমান মামলায় রিভিশনাল আদালত যথার্থভাবেই লক্ষ্য করেন যে, বিচারিক আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণ যথাযথভাবে মূল্যায়ন করেননি (non-appreciation) এবং কিছু ক্ষেত্রে ভুলভাবে মূল্যায়ন করেছেন (misappreciation), যার ফলে প্রদত্ত রায়ের আইনগত গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করেন যে, নতুন করে রায় লেখার নির্দেশ প্রদানের ক্ষমতা ঢালাওভাবে প্রয়োগযোগ্য নয়; বরং বিচারিক আদালত যখন সাক্ষ্যপ্রমাণ যথাযথভাবে মূল্যায়নের আইনগত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন, তখন ন্যায়বিচারের (to prevent miscarriage of justice) স্বার্থে এ ধরনের হস্তক্ষেপ অপরিহার্য হয়ে ওঠে।

অতএব, উচ্চ আদালত রিভিশনাল আদালতের আদেশে কোনো আইনগত ত্রুটি বা অসঙ্গতি (illegality or impropriety) খুঁজে পাননি। বিচারিক আদালতকে নতুন করে রায় লেখার নির্দেশও আইনসংগত ও যথাযথ বলে অভিহিত করেন। ফলশ্রুতিতে, ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৬১ক-এর অধীনে দায়েরকৃত আবেদনটি খারিজ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট আইন :

  1. দণ্ডবিধি, ১৮৯০
    • ধারা: ১১৪, ১৪৩, ৩০৭, ৩২৩, ৩২৪, ৩৭৯, ৪৪৭
  2.  ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮
    • ধারা: ৩৬৭, ৪২৩, ৪৩৯ক, ৫৬১ক

অনুবাদক :
১. মো. আতিকুর রহমান

নোট : The Case Summary আইনের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং আইনের শিক্ষার্থীদের দ্বারা তৈরি একটি প্ল্যাটফর্ম। আমরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নির্ভুলভাবে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার ঘটনা ও রায় তুলে ধরার চেষ্টা করি। এই প্ল্যাটফর্মটি কখনোই পূর্ণাঙ্গ আইনের ধারণা প্রদান করে না, আমরা শিক্ষার্থীদের শুধু মাত্র মামলার সারাংশ নির্ভর হওয়াকে নিরুৎসাহিত করি। ধন্যবাদ


Share