পুলুকুরি কোট্টায়া বনাম কিং-এম্পেরর (১৯৪৭)

Pulukuri Kottaya vs King-Emperor (1947)

পুলুকুরি কোট্টায়া বনাম কিং-এম্পেরর

সাইটেশন : AIR 1947 PC 67

জুরিসডিকশন : বৃটিশ ভারত (বর্তমানে ভারত)

আপিলকারী : পুলুকুরি কোট্টায়া (নিম্ন আদালতে বিবাদী)
বিবাদী : এম্পেরর [রাষ্ট্র] (নিম্ন আদালতে বাদী)

ঘটনা :

একটি সহিংস সংঘর্ষে বেশকিছু ব্যক্তি জড়িত ছিল এবং উক্ত সংঘর্ষের ফলে দুইজন ব্যক্তি নিহতও হন। তদন্ত চলাকালে সাব-ইন্সপেক্টর (SI) তার ব্যক্তিগত নোটবুকে সাক্ষীদের বক্তব্য লিপিবদ্ধ করেন। পরে একই দিনে সার্কেল ইন্সপেক্টর (CI) দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং সরকারি কেস ডায়েরিতে সাক্ষীদের বক্তব্য রেকর্ড করেন। পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় দুইজন অভিযুক্ত পৃথকভাবে বিবৃতি প্রদান করেন। অভিযুক্ত নং-৬ হত্যার কথা স্বীকার করে এবং জানায় সে একটি বর্শা ও একটি লাঠি খড়ের গাদায় লুকিয়ে রেখেছে। অপরদিকে অভিযুক্ত নং-৮ একজন ভুক্তভোগীকে ছুরিকাঘাত করার কথা স্বীকার করে এবং জানায় যে, সে তার অস্ত্রটি আঙিনায় লুকিয়ে রেখেছে। এই বিবৃতিগুলোর ভিত্তিতে উক্ত অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়।

বিচার চলাকালে, বিবাদীপক্ষ সাক্ষীদের জেরা করার জন্য সাব-ইন্সপেক্টরের নোটবুক ব্যবহারের অনুরোধ করেন। বিচার চলাকালে বিবাদীপক্ষের আইনজীবী সাব-ইন্সপেক্টরের নোটবুকটি চান। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ নোটবুকের বিষয়ে অসত্য তথ্য দেন এবং বলেন এমন কোনো নোটবুক নেই। পরবর্তীতে, বিচার প্রক্রিয়ার চতুর্থ দিনে, যখন সাক্ষীরা ইতোমধ্যে চলে গেছেন, তখন সাব-ইন্সপেক্টর হঠাৎ তার পকেট থেকে নোটবুকটি বের করেন।

মাদ্রাজ হাইকোর্ট দণ্ডাদেশ বহাল রাখেন এবং অস্ত্র উদ্ধারের কারণে সম্পূর্ণ স্বীকারোক্তিমূলক বিবৃতিগুলো গ্রহণযোগ্য বলে গণ্য করেন।

ইস্যু :
১. ফৌজদারি কার্যবিধির (CrPC) ধারা ১৬২-এর অনুবিধি লঙ্ঘন করে কোনো পুলিশ কর্মকর্তার নোটবুকে রেকর্ডকৃত সাক্ষ্যবিবৃতি দেরিতে উপস্থাপন করা হলে, সেটি এমন একটি প্রক্রিয়াগত ত্রুটি (procedural error) যা ন্যায়বিচারের কোনো ব্যর্থতা না ঘটলেও দণ্ডাদেশ বাতিল করার জন্য যথেষ্ট কি না।
২.  ভারতীয় সাক্ষ্য আইনের ধারা ২৭-এর অধীনে আবিষ্কৃত তথ্য কি কেবল উদ্ধারকৃত বস্তু পর্যন্ত সীমাবদ্ধ, নাকি সেই বস্তুকে অপরাধের সঙ্গে সংযুক্ত করে এমন সম্পূর্ণ স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য করা যায়?
৩. একটি আইনগত (statutory) প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি, শুধু এই কারণে আদালত দণ্ডাদেশ বাতিলে বাধ্য কি না।

যুক্তিতর্ক :

আপিলকারী পক্ষের যুক্তি:
তারা যুক্তি দেন যে, ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ১৬২-এর অধীনে সাক্ষ্যবিবৃতি পাওয়া একটি পূর্ণাঙ্গ অধিকারটি। এই নোটগুলো না দেওয়া একটি বেআইনি কাজ, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে দণ্ডাদেশ বাতিল করার জন্য যথেষ্ট হওয়া উচিত ছিল। তারা আরও যুক্তি দেন যে, ভারতীয় সাক্ষ্য আইনের ধারা ২৭ কেবল সেই অংশগুলোকেই গ্রহণযোগ্যতা দেয়, যা কোনো তথ্য আবিষ্কারের দিকে নিয়ে যায়। “ছুরিকাঘাত করা” বা “হত্যা করা” সম্পর্কিত যে অংশগুলোতে তারা স্বীকারোক্তি দিয়েছে, সেগুলো বাদ দেওয়া উচিত ছিল, কারণ এগুলো পুলিশকে দেওয়া স্বীকারোক্তি (যা ধারা ২৫ ও ২৬ অনুযায়ী অগ্রহণযোগ্য)।

রাষ্ট্র পক্ষের যুক্তি:
তারা যুক্তি দেন যে, নোটবুকটি দেরিতে উপস্থাপন করা ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৫৩৭-এর অধীনে কেবল একটি নিছক অনিয়ম (mere irregularity), এবং এতে অভিযুক্তদের কোনো ক্ষতি বা পক্ষপাত (prejudice) হয়নি, কারণ একই দিনে রেকর্ড করা সার্কেল ইন্সপেক্টরের নোট তাদের সরবরাহ করা হয়েছিল। তারা -এর উপর নির্ভর করে যুক্তি দেন যে, যদি কোনো বস্তু নিজেই স্বভাবগতভাবে অপরাধসূচক (incriminating) না হয়, তাহলে সেই বস্তুকে অপরাধের সঙ্গে সংযুক্ত করে এমন বিবৃতির অংশটিও গ্রহণ করতে হবে, যাতে এর প্রাসঙ্গিকতা (relevance) প্রমাণ করা যায়।

সিদ্ধান্ত :

প্রিভি কাউন্সিল আংশিকভাবে আপিল মঞ্জুর করে আইনের ভুল সংশোধন করেন, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে আসামিদের খালাস দেননি। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬২ ধারার বিষয়ে তারা বিচারটি বৈধ ছিল বলে রায় দেন। ভুলটি ছিল একটি “সংশোধনযোগ্য অনিয়ম” (curable irregularity), কারণ আসামিরা প্রকৃতপক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, যেহেতু তাদের কাছে সার্কেল ইন্সপেক্টরের নোটটি ছিল, যা মূলত একই ধরনের ছিল। সাক্ষ্য আইনের ২৭ ধারার বিষয়ে তারা বলেন, নিম্ন আদালতগুলো ভুল করেছিলেন। স্বীকারোক্তির যে অংশগুলো ছিল (যেমন: “আমি সিভাইয়াকে ছুরি মেরেছি”) সেগুলো গ্রহণযোগ্য নয়। শুধু অস্ত্র কোথায় লুকানো ছিল, সেই স্থান সম্পর্কিত অংশগুলো গ্রহণযোগ্য। ২৭ ধারার অধীনে আবিষ্কৃত তথ্য বলতে বস্তুটি নিজে নয়, বরং আসামির সেই বস্তু কোথায় লুকানো আছে সে সম্পর্কে তার জ্ঞানকে বোঝায়।

প্রিভি কাউন্সিল ফৌজদারি কার্যবিধিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যও প্রতিষ্ঠা করেন:
অবৈধতা (Illegality): যদি বিচার কার্যবিধির মৌলিক বিধান থেকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে পরিচালিত হয়, তবে তা বাতিল (void) বলে গণ্য হবে।
অনিয়ম (Irregularity): যদি বিচার মূলত সঠিকভাবে পরিচালিত হয় কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট বিধি লঙ্ঘিত হয়, তবে বিচারটি ৫৩৭ ধারার অধীনে সংশোধনযোগ্য, যদি না “বিচার ব্যর্থতা” (failure of justice) ঘটে।

সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ১৬৭ ধারা অনুযায়ী, কোনো সাক্ষ্য ভুলভাবে গ্রহণ করা হলেও, যদি রেকর্ডে দণ্ডাদেশ সমর্থনের জন্য অন্য পর্যাপ্ত প্রমাণ থাকে, তাহলে শুধু এই কারণে নতুন বিচার হবে না।

সংশ্লিষ্ট আইন :

  1. সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ (ভারত)
    • ধারা : ২৩, ২৫, ২৭, ১৬২, ১৬৭
  2.  ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮
    • ধারা: ১৬২, ৫৩৭

অনুবাদক :
১. মো. আতিকুর রহমান

নোট : The Case Summary আইনের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং আইনের শিক্ষার্থীদের দ্বারা তৈরি একটি প্ল্যাটফর্ম। আমরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নির্ভুলভাবে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার ঘটনা ও রায় তুলে ধরার চেষ্টা করি। এই প্ল্যাটফর্মটি কখনোই পূর্ণাঙ্গ আইনের ধারণা প্রদান করে না, আমরা শিক্ষার্থীদের শুধু মাত্র মামলার সারাংশ নির্ভর হওয়াকে নিরুৎসাহিত করি। ধন্যবাদ


Cite this Page:

OSCOLA

APA

Bluebook

Share