সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয় বনাম মাসদার হোসেন ও অন্যান্য
সাইটেশন : 52 DLR (AD) 82
জুরিসডিকশন : বাংলাদেশ
আবেদনকারী : সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়
বিবাদী : মাসদার হোসেন ও অন্যান্য
ঘটনা :
মামলাটি মোট ২২৩ জন বিবাদী ছিলেন, যাদের মধ্যে জেলা জজ, অতিরিক্ত জেলা জজ এবং অধস্তন বিচারকগণ অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তারা বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের চাকরির শর্তাবলির ওপর নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণকে চ্যালেঞ্জ করে মামলাটি দায়ের করেন। ১৯৮০ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সরকার Bangladesh Civil Service (Re-organisation) Order, 1980 জারি করে, যার মাধ্যমে বিচার বিভাগীয় সার্ভিসকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (BCS) ১৪টি ক্যাডারের একটি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং এর নামকরণ করা হয় “BCS (Judicial)”। এই পুনর্গঠনটি ১৯৭৫ সালের The Services (Re-organisation and Conditions) Act দ্বারা সমর্থিত ছিলো, যা সরকারকে বিভিন্ন সার্ভিস সৃষ্টি, একীভূতকরণ বা পুনর্গঠনের পাশাপাশি চাকরির শর্তাবলি পরিবর্তনের ব্যাপক ক্ষমতা প্রদান করে। ১৯৯৪ সালের ৮ই জানুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয় একটি আদেশ জারি করে, যার মাধ্যমে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের বেতন কাঠামো উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়। ওই আদেশে স্পষ্টভাবে স্বীকার করা হয় যে, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের কাজের প্রকৃতি অন্যান্য সিভিল সার্ভিস থেকে ভিন্ন ও স্বতন্ত্র। কিন্তু অন্যান্য BCS ক্যাডারদের চাপের মুখে সরকার ১৯৯৪ সালের ২৮শে ফেব্রুয়ারি এই আদেশের বাস্তবায়ন স্থগিত করে। পরবর্তীতে সরকার আরেকটি আদেশ জারি করে, যাতে পূর্বের বেতন বৃদ্ধি বাতিল করা হয় এবং বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের বেতন পুনর্নির্ধারণ করা হয়। আবেদনকারীদের দাবি ছিল, এই পুনর্নির্ধারণ বৈষম্যমূলক এবং তাদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করেছে।
আদালত লক্ষ্য করেন যে, সংবিধানের ষষ্ঠ ভাগের দ্বিতীয় অধ্যায়, যা অধস্তন আদালতসমূহকে নিয়ন্ত্রণ করে, তা কার্যকর করার জন্য সংসদ কিংবা রাষ্ট্রপতি গত ২৫ বছরেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি, যদিও চতুর্থ তফসিলে এটি “যত দ্রুত সম্ভব” বাস্তবায়নের নির্দেশনা ছিল। বিচারক মো. মাসদার হোসেনের নেতৃত্বে ২২৩ জন বিচারক, একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। তাদের যুক্তি ছিল, একটি ক্যাডারের অংশ হিসেবে থাকলে তারা সেই সচিবদের অধীনস্থ হয়ে পড়েন, যাদের কার্যক্রমের বিচার করার দায়িত্ব তাদের (আবেদনকারীদের) ওপর ন্যস্ত। ১৯৯৭ সালে হাইকোর্ট বিভাগ বিচারকদের পক্ষে রায় প্রদান করেন এবং BCS (Judicial) ক্যাডারকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার নির্দেশ প্রদান করেন। এর বিরুদ্ধে সরকার আপিল বিভাগে আপিল করে। সরকারের যুক্তি ছিল, সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির প্রজাতন্ত্রের সকল সার্ভিস নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা রয়েছে, যার মধ্যে বিচারকরাও অন্তর্ভুক্ত।
ইস্যু :
১. বিচার বিভাগীয় সার্ভিসের সদস্যরা কি সাধারণ অর্থে “প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত ব্যক্তি”, যার ফলে তারা নির্বাহী বিভাগের সিভিল সার্ভিসের অধীন হবেন, নাকি তারা সংবিধানের ষষ্ঠ ভাগ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত একটি স্বতন্ত্র ও পৃথক সার্ভিসের অন্তর্ভুক্ত?
২. সংবিধানের ১১৫ ও ১১৬ অনুচ্ছেদের অধীনে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার পরিধি কি, এবং বিচারকদের নিয়োগ ও শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধি প্রণয়নের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করতে বাধ্য কি না।
৩. সংবিধানের ১১৫ অনুচ্ছেদের অধীনে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতার মধ্যে সাময়িক বরখাস্ত (suspend) বা অপসারণ (dismiss) করার ক্ষমতাও অন্তর্ভুক্ত কি না।
৪. সংবিধানের ১৩৩ ও ১৩৬ অনুচ্ছেদের অধীনে আইনসভা কর্তৃক BCS (Judicial) ক্যাডার গঠন করা সাংবিধানিকভাবে বৈধ কি না, নাকি এ ধরনের একীভূতকরণ বিচার বিভাগের পৃথকীকরণের সাংবিধানিক কাঠামোর পরিপন্থি?
যুক্তিতর্ক :
আপিলকারী পক্ষের যুক্তি :
আপিলকারীদের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয় যে, “প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত সার্ভিস” (Service of the Republic) একটি বিস্তর ও সাধারণ ধারণা, যার মধ্যে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারাও অন্তর্ভুক্ত। তাই সংবিধানের ১৩৬ অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রকে যেকোনো সার্ভিস পুনর্গঠন, একীভূতকরণ বা সমন্বয়ের ক্ষমতা প্রদান করেছে এবং সেই ক্ষমতার আওতায় বিচার বিভাগকেও বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (BCS) ক্যাডারের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। অ্যাটর্নি জেনারেল যুক্তি দেন যে, এই অন্তর্ভুক্তকরণ ছিল একটি বৈধ প্রশাসনিক পদক্ষেপ, যার উদ্দেশ্য ছিল সকল সরকারি চাকরিজীবীর জন্য একই ধরনের চাকরির শর্ত নিশ্চিত করা। তিনি আরও বলেন যে, The Services (Re-organisation and Conditions) Act, 1975 এতটাই বিস্তৃত যে তা সকল সরকারি কর্মচারীর ওপর প্রযোজ্য। তিনি আরও যুক্তি উপস্থাপন করেন যে, যদি বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সিভিল সার্ভিস থেকে আলাদা হিসেবে গণ্য করা হয়, তবে তারা সংবিধানের ২৯ অনুচ্ছেদে বর্ণিত সমান সুযোগের অধিকার এবং ১৩৫ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত চাকরি থেকে অপসারণের বিরুদ্ধে সুরক্ষার মতো মৌলিক সাংবিধানিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন, যা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত সকল ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য। আপিলকারীরা এ বিষয়টিতে জোর দিয়ে বলেন যে, সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ স্পষ্টভাবে বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিষয়ক ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত করেছে। তাই শুধু ক্যাডার ব্যবস্থার মাধ্যমে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করা হয়েছে বলে হাইকোর্ট একে ultra vires বা অসাংবিধানিক ঘোষণা করতে পারেন না। তাদের মতে, ১৯৮০ সালের আদেশটি ছিল রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার বৈধ প্রয়োগ এবং বিচার বিভাগ রিট এখতিয়ারের মাধ্যমে নির্বাহী বিভাগকে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে বিধি প্রণয়ন করতে বাধ্য করতে পারে না। আরও বলা হয় যে, একজন বিচারক একই সঙ্গে বিচারিক কর্মকর্তা (presiding officer) এবং রাষ্ট্রের একজন কর্মচারী। ফলে তাদের ক্যাডার মর্যাদা বা বেতনসংক্রান্ত কোনো অভিযোগ থাকলে তা প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা উচিত, হাইকোর্টে নয়। সবশেষে আপিলকারীরা দাবি করেন যে, বিভিন্ন সার্ভিস একীভূত করার সরকারি ক্ষমতা মূলত রাষ্ট্র পরিচালনার নীতিগত বিষয় (state policy issue), এবং এ ধরনের বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।
বিবাদী পক্ষের যুক্তি:
বিবাদীপক্ষ যুক্তি দেয় যে, “Judicial Service” সংবিধানের ১৫২ অনুচ্ছেদে ব্যবহৃত একটি সাংবিধানিক পরিভাষা এবং এটি সংবিধানের ষষ্ঠ ভাগের অধীন পরিচালিত একটি স্বতন্ত্র সার্ভিস, যা সাধারণ সিভিল সার্ভিস থেকে সম্পূর্ণ পৃথক। তাদের মতে, ১৯৮০ সালের আদেশটি ছিল একটি অসাংবিধানিক পদক্ষেপ, যার মাধ্যমে বিচার বিভাগকে “BCS (Judicial)” ক্যাডারের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাতে বিচার বিভাগকে মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয় ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণের অধীনে আনা যায়। ড. কামাল হোসেন যুক্তি দেন যে, The Services (Re-organisation and Conditions) Act, 1975 মূলত সিভিল সার্ভিসের জন্য প্রণীত হয়েছিল এবং বিচার বিভাগীয় সার্ভিসের ওপর এটি প্রয়োগ করা সংবিধানের মৌলিক কাঠামো, বিশেষত বিচার বিভাগের স্বাধীনতার নীতির পরিপন্থি। তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা সাধারণ অর্থে চাকরিজীবী নন; বরং তারা রাষ্ট্রের সার্বভৌম বিচারিক ক্ষমতা প্রয়োগ করেন। তাই তাদেরকে একটি সিভিল ক্যাডারের অন্তর্ভুক্ত করা সাংবিধানিকভাবে ভুল। জনাব আমির-উল-ইসলাম কথিত “Mockingbirds” যুক্তি উপস্থাপন করেন। তার বক্তব্য ছিল, যদি বিচারকগণ সিভিল সার্ভিসের অংশ হন, তাহলে নির্বাহী বিভাগের হাতে তাদের পদায়ন ও পদোন্নতির ক্ষমতা চলে যাবে, ফলে সংবিধানের ১১৬ক (Article 116A)-এ ঘোষিত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কেবল নামমাত্র থেকে যাবে। তারা আরও যুক্তি দেন যে, সংবিধানের ১৩৬ অনুচ্ছেদে সার্ভিস পুনর্গঠনের ক্ষমতা দেওয়া হলেও, সেই ক্ষমতা সংবিধানের অন্যান্য বিধানের অধীন। অর্থাৎ, এটি সংবিধানের ষষ্ঠ ভাগে বর্ণিত পৃথক বিচার বিভাগীয় সার্ভিস গঠনের বাধ্যবাধকতাকে বাতিল করতে পারে না। বিবাদীপক্ষ আরও উল্লেখ করেন যে, ১৯৮০ সালের আদেশটি রাষ্ট্রপতি কর্তৃক ১১৫ অনুচ্ছেদের অধীনে জারি করা হয়নি; বরং তা মন্ত্রিপরিষদ সচিবালয়ের মাধ্যমে প্রণীত হয়েছিল। সর্বশেষে তারা বলেন, বিচারকগণের বেতন ও আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণ বিচার বিভাগকে প্রভাবিত করার সুযোগ সৃষ্টি করে, অর্থাৎ নির্বাহী বিভাগ চাইলে বিচার বিভাগের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে পারে। তাই বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে আর্থিক স্বাধীনতা এবং পৃথক Judicial Pay Commission গঠন অপরিহার্য।
সিদ্ধান্ত :
আপিল বিভাগ হাইকোর্ট বিভাগের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন যে, বিচার বিভাগীয় সার্ভিসকে BCS-এর অন্তর্ভুক্ত করা অসাংবিধানিক এবং ultra vires। আদালত রায় দেন, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা যদিও “প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত ব্যক্তি”, তবুও তারা একটি স্বতন্ত্র শ্রেণি (class apart)। আদালত ১৯৮০ সালের পুনর্গঠন আদেশকে বাতিল ঘোষণা করেন এবং বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ নিশ্চিত করতে ১২টি নির্দেশনা প্রদান করেন।
- বিচার বিভাগীয় সার্ভিস সংবিধানের ১৫২(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একটি স্বতন্ত্র রিপাবলিক সার্ভিস। এটি নির্বাহী সিভিল সার্ভিসের সঙ্গে একীভূত হতে পারে না।
- সংবিধানের ১১৫ অনুচ্ছেদে ব্যবহৃত “appointments” শব্দটি রাষ্ট্রপতিকে বিচার বিভাগীয় সার্ভিস ও ম্যাজিস্ট্রেসি প্রতিষ্ঠার ক্ষমতা প্রদান করে। এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে নিয়োগ, সাময়িক বরখাস্ত এবং অপসারণসংক্রান্ত বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা। বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও শৃঙ্খলাবিষয়ক বিষয়সমূহ ১৩৩ ও ১৩৬ অনুচ্ছেদ এবং The Services Reorganisation and Conditions Act, 1975-এর আওতার বাইরে থাকবে।
- Bangladesh Civil Service Reorganisation Order, 1980 এর মাধ্যমে BCS Judicial Cadre গঠনকে ultra vires ঘোষণা করা হয়। আদালত বলেন, Bangladesh Civil Service Recruitment Rules, 1981 বিচার বিভাগীয় সার্ভিসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
- রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ১১৫ অনুচ্ছেদ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বিধি প্রণয়ন করতে বাধ্য। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দেন যে, বিচার বিভাগীয় সার্ভিসের নাম সংবিধানের ভাষা অনুসরণ করে “Judicial Service of Bangladesh” অথবা “Bangladesh Judicial Service” হবে।
- বিচার বিভাগীয় সার্ভিসের জন্য পৃথক বিধিমালা প্রণয়ন করতে হবে, যেখানে পদায়ন, পদোন্নতি, ছুটি, শৃঙ্খলাবিধি, বেতন ও পেনশন সংক্রান্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এসব বিধি অবশ্যই সংবিধানের ১১৬ ও ১১৬ক অনুচ্ছেদে প্রদত্ত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে।
- ১৯৯৪ ও ১৯৯৫ সালের বেতনসংক্রান্ত আদেশসমূহকে ultra vires ঘোষণা করা হয়। সরকারকে পৃথক Judicial Pay Commission গঠন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়, যা বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণ করবে। বিচারকদের বেতন এই কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
- সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচার বিভাগীয় নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিষয়ক প্রধান কর্তৃত্ব সুপ্রিম কোর্টের হাতে থাকবে।
- বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে তিনটি মৌলিক শর্ত প্রয়োজন, এবং এগুলোকে ১৩৩ অনুচ্ছেদের অধীনে প্রণীত বিধির মাধ্যমে আইনগত সুরক্ষা দিতে হবে।
- সুপ্রিম কোর্ট অনুমোদিত ব্যয়সীমার মধ্যে পরিচালিত হলে নির্বাহী বিভাগের আলাদা বাজেট অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না। এ সংক্রান্ত আর্থিক ক্ষমতা অর্পণের কাজ ৩১-৫-২০০০ তারিখের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
- আপিল বিভাগ রায় দেন যে, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার বিচার বিভাগীয় সার্ভিসের সদস্যদের ওপরও প্রযোজ্য। এ বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগের বিপরীত সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়।
- বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের জন্য অতিরিক্ত সাংবিধানিক সংশোধনের প্রয়োজন নেই, হাইকোর্ট বিভাগের এরূপ মতামতকে বাতিল বলে ঘোষণা করা হয়। আপিল বিভাগ মত দেন যে, বিচার বিভাগের আরও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সংসদ সংবিধান সংশোধন করতে পারে।
সংশ্লিষ্ট আইনি নীতি :
ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতি: ক্ষমতার পৃথকীকরণ হলো এমন একটি শাসনব্যবস্থা, যেখানে রাষ্ট্রের ক্ষমতা একক কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়া রোধ করার জন্য সরকারের দায়িত্বসমূহকে পৃথক পৃথক শাখার মধ্যে ভাগ করা হয়। এই ব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা তিনটি স্বাধীন অঙ্গের মধ্যে বিভক্ত থাকে। আইনসভা (Legislative Branch) আইন প্রণয়নের দায়িত্ব পালন করে। নির্বাহী বিভাগ (Executive Branch) আইন বাস্তবায়ন ও প্রয়োগের দায়িত্ব পালন করে। বিচার বিভাগ (Judiciary Branch) আইন ব্যাখ্যা এবং বিরোধ নিষ্পত্তির দায়িত্ব পালন করে। এই ব্যবস্থা নিশ্চিত করে যে, কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যেন রাষ্ট্রের ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্য এটি আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য।
সংশ্লিষ্ট আইন :
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান
- অনুচ্ছেদ : ২২, ১১৫, ১১৬, ১৩৩, ১৩৬, ১৫২(১)
- পরিষেবা (পুনর্গঠন ও শর্তাবলী) আইন, ১৯৭৫
অনুবাদক :
১ . মো. আতিকুর রহমান
[সতর্কতা : উক্ত মামলার বাংলা সংস্করণটি মূল ইংরেজি হতে অনূদিত। অর্থগত সামঞ্জস্যতা বজায় রাখার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করা হয়েছে। কোনো প্রকার অসামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হলে, মূল ইংরেজি সংস্করণ প্রাধান্য পাবে।]
নোট : The Case Summary আইনের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং আইনের শিক্ষার্থীদের দ্বারা তৈরি একটি প্ল্যাটফর্ম। আমরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নির্ভুলভাবে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার ঘটনা ও রায় তুলে ধরার চেষ্টা করি। এই প্ল্যাটফর্মটি কখনোই পূর্ণাঙ্গ আইনের ধারণা প্রদান করে না, আমরা শিক্ষার্থীদের শুধু মাত্র মামলার সারাংশ নির্ভর হওয়াকে নিরুৎসাহিত করি। ধন্যবাদ