বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি (বিএনডব্লিওএলএ) বনাম বাংলাদেশ সরকার ও অন্যান্য
সাইটেশন : 2009 29 BLD 415 (Writ Petition No. 5916 of 2008)
জুরিসডিকশন : বাংলাদেশ
আবেদনকারী : বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি (বিএনডব্লিওএলএ)
বিবাদী : বাংলাদেশ সরকার এবং অন্যান্য
ঘটনা :
বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি (বিএনডব্লিওএলএ) একটি গুরুত্বপূর্ণ রিট আবেদন হাইকোর্ট বিভাগে উপস্থাপন করে, যেখানে একটি গুরুতর সামাজিক ও আইনি বিষয় উত্থাপন করা হয়। সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে দায়েরকৃত এই আবেদনে আদালত একটি রুল নিসি জারি করেন, যাতে বিবাদীদেরকে কেন তারা কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য স্থানে নারীদের ও কন্যাশিশুদের অধিকার সুরক্ষা ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কোনো নির্দেশিকা, নীতি বা আইন প্রণয়নে ব্যর্থ হয়েছে, যা বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে নিয়মিতভাবে প্রকাশিত হয়ে আসছিল, তার কারণ দর্শাতে বলেন। রায়ে এ ধরনের বেশ কয়েকটি ঘটনার ওপর আলোকপাত করা হয়। কর্মক্ষেত্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নারীদের ওপর দমন-পীড়ন ও যৌন নির্যাতনের হৃদয়বিদারক ঘটনাগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নারীরা তাদের পুরুষ সহকর্মী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্বারা হয়রানির শিকার হন। এ মামলায় মোট ১৯ জন বিবাদীর বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করা হয়।
ইস্যু :
১. দেশীয় আইনে কোনো বিষয়ের শূন্যতা বা ঘাটতি (vacuum) থাকলে আদালত আন্তর্জাতিক আইনের উপাদান গ্রহণ করতে পারেন কি না।
২. যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে কার্যকর আইন না থাকার কারণে নারীদের সংবিধানপ্রদত্ত সমতা, মর্যাদা এবং আইনি সুরক্ষার অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছিল কি না।
৩. আইনি শূন্যতা পূরণের জন্য হাইকোর্ট বিভাগ সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদের অধীনে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশিকা জারি করতে পারেন কি না।
যুক্তিতর্ক :
আবেদনকারী পক্ষের যুক্তি :
আবেদনকারীগণ যুক্তি দেন যে, কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারীরা যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন, কারণ এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো আইন বিদ্যমান নেই। এর ফলে সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত আইনের সমান সুরক্ষা এবং জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার মতোনমৌলিক অধিকারগুলো লঙ্ঘিত হচ্ছে। তারা আরও যুক্তি উপস্থাপন করেন যে, আন্তর্জাতিক কনভেনশনসমূহ সরাসরি প্রয়োগযোগ্য না হলেও, যদি সেগুলো দেশীয় আইনে অন্তর্ভুক্ত না হয়, তবুও আদালত সেগুলোকে সহায়ক (interpretative tool) হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এ প্রসঙ্গে HM Ershad vs Bangladesh [2001 (AD) 69] মামলা উল্লেখ করা হয়, যেখানে বলা হয়ছিলো, মৌলিক অধিকার ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক দলিল ব্যবহার করা যেতে পারে। এ অনুযায়ী, আবেদনকারীগণ Convention on the Elimination of All Forms of Discrimination Against Women (CEDAW) এবং Universal Declaration of Human Rights (UDHR) এর মতো আন্তর্জাতিক কনভেনশনগুলোর উদাহরণ দেন। তাদের মতে, যৌন হয়রানি নারীর মর্যাদা ও সমতার অধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এছাড়াও, তারা তুলনামূলক একই ধরনের বিচারব্যবস্থার কিছু বিচারিক নজির তুলে ধরেন, বিশেষ করে ভারতের ঐতিহাসিক Vishaka v State of Rajasthan [AIR 1992 SC 3011] মামলার উদাহরণ দেন, যেখানে নির্দিষ্ট আইন না থাকা সত্ত্বেও আদালত যৌন হয়রানি প্রতিরোধে নির্দেশিকা প্রণয়ন করে। অতএব, আবেদনকারীরা আদালতের কাছে অনুরোধ করেন যে, যথাযথ আইন প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত নারীদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হোক।
বিবাদী পক্ষের যুক্তি:
কেবল একজন প্রতিপক্ষ, অর্থাৎ বিবাদী নং ৩, নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়, যার পক্ষে সচিব প্রতিনিধিত্ব করেন, জবাব প্রদান করেন। তারা উপস্থাপন করেন যে, দেশে নারী সুরক্ষার জন্য ইতোমধ্যে বহু আইন বিদ্যমান রয়েছে, যার মধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনও অন্তর্ভুক্ত। ফলে এ বিষয়ে আলাদা কোনো নির্দেশিকা প্রণয়নের প্রয়োজন নেই। তারা আরও যুক্তি দেন যে, আইন প্রণয়ন মূলত সংসদের কাজ; তাই এ ধরনের নির্দেশিকা প্রদান বিচার বিভাগের ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করার শামিল হতে পারে। এছাড়াও, তারা অ্যাফিডেভিট-ইন-অপোজিশনের আলোকে বিবাদী নং ৭–এর বিষয়টিও উত্থাপন করেন। তাদের বক্তব্য ছিল যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে পক্ষভুক্ত করা হয়নি এবং কেবল উপাচার্যকে অন্তর্ভুক্ত করাই যথেষ্ট নয়। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বিবাদী নং ৯ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত বিবাদীগণ আদালতে হাজির হননি এবং বিবাদী নং ৭–এর বিজ্ঞ আইনজীবীও উপস্থিত হননি।
সিদ্ধান্ত :
হাইকোর্ট বিভাগ রায় দেন যে, যৌন হয়রানি নারীদের সংবিধানপ্রদত্ত সমতা, মর্যাদা ও জীবনের অধিকারের লঙ্ঘন এবং এটি লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যের একটি রূপ। নির্দিষ্ট আইন অনুপস্থিত থাকায়, আদালত সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদের অধীনে বাধ্যতামূলক নির্দেশিকা জারি করে, যাতে কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়। এই নির্দেশিকাগুলো সংসদ উপযুক্ত আইন প্রণয়ন না করা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
নির্দেশাবলী:
১. পরিধি
এই নির্দেশিকাগুলো বাংলাদেশের ভূখণ্ডের মধ্যে অবস্থিত কর্মক্ষেত্র এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে প্রযোজ্য হবে।
২. লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
ক) যৌন হয়রানি এবং এর পরিণতি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা।
খ) যৌন হয়রানি যে একটি দণ্ডনীয় অপরাধ, সে বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা।
৩. মালিক ও কর্তৃপক্ষের কর্তব্য
যেহেতু সংবিধান লিঙ্গ সমতা এবং বৈষম্য থেকে সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেয়, তাই সকল উপস্থিত আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক উপায় ব্যবহার করে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ করা এবং এর শাস্তির জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা মালিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের কর্তব্য।
৪. সংজ্ঞা
i) যৌন হয়রানির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:
ক) অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আচরণ (প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে) যেমন শারীরিক স্পর্শ এবং যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ প্রস্তাব।
খ) প্রশাসনিক, কর্তৃত্বপূর্ণ বা পেশাগত ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রচেষ্টা বা উদ্যোগ।
গ) যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মৌখিক মন্তব্য বা অঙ্গভঙ্গি।
ঘ) যৌন অনুগ্রহের জন্য দাবি বা অনুরোধ।
ঙ) পর্নোগ্রাফি প্রদর্শন।
চ) অশালীন অঙ্গভঙ্গি, অপমানজনক ভাষার মাধ্যমে উত্যক্ত করা, গোপনে অনুসরণ করা, যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ রসিকতা করা।
ছ) চিঠি, টেলিফোন কল, এসএমএস, উদ্দেশ্যহীনভাবে কথা বলা, বিজ্ঞপ্তি, কার্টুন, বেঞ্চ, চেয়ার, টেবিল, নোটিশ বোর্ড, অফিস, কারখানা, শ্রেণিকক্ষ, শৌচাগারের দেয়ালে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ লেখা।
জ) চরিত্র হনন বা ব্ল্যাকমেল করার উদ্দেশ্যে স্থির বা ভিডিও পর্নোগ্রাফি তৈরি করা।
ঝ) লিঙ্গের ভিত্তিতে এবং/অথবা যৌন হয়রানির উদ্দেশ্যে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক, সাংগঠনিক এবং শিক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণে বাধা দেওয়া।
ঞ) প্রেমের প্রস্তাব দেওয়া এবং প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে চাপ প্রয়োগ করা বা হুমকি দেওয়া।
ট) প্রতারণা, ভয় দেখানো বা মিথ্যা আশ্বাসের মাধ্যমে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা।
ক থেকে ট পর্যন্ত উল্লিখিত এই ধরনের আচরণ অপমানজনক হতে পারে এবং কর্মক্ষেত্র বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে; যদি কোনো মহিলা যুক্তিসঙ্গত কারণে বিশ্বাস করেন যে, কোনো ধরনের আপত্তি তার শিক্ষা বা কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বিভিন্নভাবে বাঁধা সৃষ্টি করবে, তখন তা বৈষম্যমূলক বলে গণ্য হবে।
ii) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলতে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা কর্মক্ষেত্রের এমন কর্তৃপক্ষকে বোঝায়, যা প্রাসঙ্গিক শৃঙ্খলাবিধি অনুসারে অসদাচরণের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত।
iii) শৃঙ্খলাবিধি বলতে কোনো আইন বা অধ্যাদেশ বা অন্য কোনো অধস্তন আইন দ্বারা নির্ধারিত নিয়মাবলীকে বোঝায় এবং এর মধ্যে যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সংস্থা এবং কর্মক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য প্রণীত যেকোনো নিয়মাবলি অন্তর্ভুক্ত।
৫. সচেতনতা সৃষ্টি এবং জনমত গঠন
ক) যৌন হয়রানি ও নির্যাতন প্রতিরোধ ও নির্মূল করতে এবং শ্রম ও শিক্ষার জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে, সকল কর্মক্ষেত্রের মালিক/ব্যবস্থাপনা এবং সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ যৌন হয়রানি ও লিঙ্গ বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রচার ও প্রকাশনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।
খ) প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য যথাযথ কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা থাকতে হবে।
গ) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং মালিকরা এই বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ এবং কার্যকর পরামর্শ বজায় রাখবে।
ঘ) লিঙ্গ সমতা এবং যৌন অপরাধ সংক্রান্ত সংবিধান ও আইনের বিধানাবলি এবং এই নির্দেশিকাগুলো সম্বলিত পুস্তিকা ও নির্দেশিকা প্রস্তুত ও প্রকাশ করা।
ঙ) সংবিধানে প্রণীত মৌলিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা।
৬) প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ:
সকল মালিক, কর্মক্ষেত্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এই বাধ্যবাধকতাগুলো পালনের জন্য, তারা অন্যান্য পদক্ষেপের পাশাপাশি নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করবে:
ক) উপরে ৪ নং ধারায় সংজ্ঞায়িত যৌন হয়রানি এবং যৌন নির্যাতনের নিষেধাজ্ঞা ব্যাপকভাবে এবং কার্যকরভাবে বিজ্ঞাপিত, প্রকাশিত এবং প্রচারিত করতে হবে।
খ) লিঙ্গ বৈষম্য এবং যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ নিষেধাজ্ঞাগুলো ব্যাপকভাবে প্রচার করতে হবে।
গ) কর্মক্ষেত্র এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেন নারীদের জন্য কোনো প্রতিকূল পরিবেশ না থাকে তা নিশ্চিত করা এবং নারী কর্মী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই আত্মবিশ্বাস ও আস্থা তৈরি করা যে, তারা তাদের পুরুষ সহকর্মী এবং সহপাঠীদের তুলনায় কোনো বৈষম্যমূলক অবস্থানে নেই।
৭) শাস্তিমূলক ব্যবস্থা:
এই নির্দেশিকার ৪ নং ধারায় যৌন হয়রানি এবং নির্যাতনের সংজ্ঞার আওতাধীন কোনো ঘটনার ক্ষেত্রে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৮) অভিযোগ:
যেখানে এই নির্দেশিকায় বর্ণিত অপরাধগুলো শৃঙ্খলাবিধির অধীনে অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হয় না, সেখানে ভুক্তভোগীর করা অভিযোগের রেকর্ড এবং প্রতিকারের জন্য একটি উপযুক্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। অভিযোগ গ্রহণ ব্যবস্থায় নিম্নলিখিত নির্দেশগুলো অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে:
ক) নিশ্চিত করতে হবে যে, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত না হওয়া অবধি অভিযোগকারী এবং অভিযুক্তের পরিচয় প্রকাশ করা হবে না।
খ) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
গ) অভিযোগ ভুক্তভোগী নিজে অথবা তার আত্মীয়, বন্ধু বা আইনজীবীর মাধ্যমে দায়ের করতে পারবেন এবং এটি মেইলের মাধ্যমেও পাঠানো যাবে।
ঘ) একজন অভিযোগকারী তার পরিবারের কোনো মহিলা সদস্যের সাথে আলাদাভাবে অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন।
ঙ) নিচের ৯ নং ধারায় উল্লিখিত বিধান অনুযায়ী গঠিত অভিযোগ কমিটির কাছে অভিযোগটি দাখিল করতে হবে।
৯. অভিযোগ কমিটি:
ক) সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের সকল কর্মক্ষেত্র এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত পরিচালনা এবং তদন্তের সুপারিশ করার জন্য একটি অভিযোগ কমিটি গঠন করবে।
খ) অভিযোগ কমিটিতে ন্যূনতম ৫ জন সদস্য থাকবেন এবং সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মহিলা থাকবেন। সম্ভব হলে কমিটির প্রধান একজন মহিলা হবেন।
গ) সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বাইরের অন্তত দুজন সদস্য অভিযোগ কমিটিতে থাকতে হবে, বিশেষত লিঙ্গ বৈষম্য এবং যৌন নিপীড়ন নিয়ে কাজ করে এমন প্রতিষ্ঠান এর ব্যক্তিকে প্রাধান্য দিতে হবে।
ঘ) এই নির্দেশিকাগুলো যথাযথভাবে মেনে চলার বিষয়ে অভিযোগ কমিটি সরকারের কাছে বার্ষিক প্রতিবেদন জমা দিবে।
১০) অভিযোগ কমিটির কার্যপ্রণালি:
সাধারণত, ঘটনা ঘটার ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে অভিযোগটি অভিযোগ কমিটির কাছে দাখিল করতে হবে। ছোটোখাটো অভিযোগের ক্ষেত্রে, কমিটি পক্ষগণের সম্মতিতে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন জমা দিবে এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে তারা একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত পরিচালনা করবে। নোটিশ জারি করা, শুনানি করা, সাক্ষ্য গ্রহণ করা এবং নথি পরীক্ষা করার ক্ষমতা কমিটির রয়েছে; মৌখিক ও পারিপার্শ্বিক উভয় প্রকার সাক্ষ্য-প্রমাণের উপর জোর দেওয়া হবে। কমিটিকে অবশ্যই উভয়পক্ষের গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে হবে, ক্যামেরার সামনে সাক্ষ্য রেকর্ড করতে হবে এবং যেকোনো অপমানজনক বা হয়রানিমূলক প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। যদি কোনো অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়, তবে তার কারণগুলো অবশ্যই পরীক্ষা করে লিপিবদ্ধ করতে হবে। কমিটিকে অবশ্যই ৩০ দিনের মধ্যে (প্রয়োজনে ৬০ দিন পর্যন্ত বর্ধিত করা যেতে পারে) সুপারিশসহ তার প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। যদি কোনো অভিযোগ ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়, তবে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা যেতে পারে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
১১) শাস্তি:
অভিযোগ কমিটির সুপারিশ প্রাপ্তির পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত ব্যক্তিদের (শিক্ষার্থী ব্যতীত) সাময়িকভাবে বরখাস্ত করতে পারে এবং কোনো শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে, তাদের ক্লাস করা থেকে বিরত রাখতে পারে। এই ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ও উপযুক্ত আইন প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মক্ষেত্রে উপরোক্ত নির্দেশিকাগুলো কঠোরভাবে অনুসরণ ও পালন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট আইনি নীতি :
ডকট্রিন অব ইন লোকো প্যারেন্টিস: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার্থীদের প্রতি যত্নের এক বিশেষ নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের যৌন হয়রানিকে সেই আস্থার অপব্যবহার বা বিশ্বাসভঙ্গ হিসেবে গণ্য করা হয়।
সংশ্লিষ্ট আইন :
- গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান
- অনুচ্ছেদ : ২৭, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২
- নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০
অনুবাদক :
১ . মো. আতিকুর রহমান
২. রাইয়ান তালুকদার
[সতর্কতা : উক্ত মামলার বাংলা সংস্করণটি মূল ইংরেজি হতে অনূদিত। অর্থগত সামঞ্জস্যতা বজায় রাখার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করা হয়েছে। কোনো প্রকার অসামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হলে, মূল ইংরেজি সংস্করণ প্রাধান্য পাবে।]
নোট : The Case Summary আইনের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং আইনের শিক্ষার্থীদের দ্বারা তৈরি একটি প্ল্যাটফর্ম। আমরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নির্ভুলভাবে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার ঘটনা ও রায় তুলে ধরার চেষ্টা করি। এই প্ল্যাটফর্মটি কখনোই পূর্ণাঙ্গ আইনের ধারণা প্রদান করে না, আমরা শিক্ষার্থীদের শুধু মাত্র মামলার সারাংশ নির্ভর হওয়াকে নিরুৎসাহিত করি। ধন্যবাদ