আবদুর রহমান খাঁ বনাম রাষ্ট্র
সাইটেশন : 59 DLR 345
জুরিসডিকশন : বাংলাদেশ
আপিলকারী : আবদুর রহমান খাঁ
বিবাদী : রাষ্ট্র
ঘটনা :
তথ্যদাতা আবদুর রহমান খাঁ ১০-০৭-১৯৯৮ তারিখে সামিরসহ চারজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে একটি প্রাথমিক তথ্য প্রতিবেদন (FIR) দায়ের করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে অভিযুক্তরা তাকে এবং তার পিতাকে আক্রমণ করে। আবদুর রহমান ও তার পিতা জমিতে চাষাবাদ করছিলেন, তখন অভিযুক্তরা প্রাণঘাতী অস্ত্র (রাম দা) নিয়ে তাদের উপর হামলা চালায়। তারা পালানোর চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা অভিন্ন অভিপ্রায়ে তাদের ঘিরে ফেলে এবং তথ্যদাতার পিতাকে আঘাত করে। ফলে তিনি মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং মৃত্যুবরণ করেন। এ প্রেক্ষিতে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় মামলা রুজু করা হয়।
জবানবন্দি গ্রহণ করে এবং ৬-১০-১৯৯৮ তারিখে সামিরসহ সকল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় চার্জশিট দাখিল করে। এরপর মামলাটি বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারের জন্য প্রেরণ করা হয়। তবে পরবর্তীতে বিজ্ঞ বিচারক একটি আদেশের মাধ্যমে ফৌজদারি কার্যবিধির ২৬৫গ ধারার ক্ষমতা প্রয়োগ করে সামিরকে অব্যাহতি (discharge) প্রদান করেন এবং বাকি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
এই আদেশে সংক্ষুব্ধ হয়ে তথ্যদাতা ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩৫/৪৩৯ ধারার অধীনে অব্যাহতির আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন, হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিভিশন আবেদন দায়ের করেন।
ইস্যু :
১. রাষ্ট্র পক্ষ থেকে কোনো রিভিশন আবেদন দায়ের না করা হলে, তথ্যদাতা ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩৫/৪৩৯ ধারার অধীনে অব্যাহতির আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন আবেদন দায়ের করার আইনত অধিকার (locus standi) রাখে কি না।
২. অধস্তন আদালতের আদেশে কোনো বেআইনি কার্য (illegality) বা গুরুতর ত্রুটি (material irregularity) থাকলে, তা সংশোধনের জন্য হাইকোর্ট বিভাগ তার রিভিশনাল এখতিয়ার প্রয়োগ করতে পারে কি না।
৩. প্রাথমিক তথ্য বিবরণী (FIR) এবং চার্জশিটে প্রাথমিকভাবে অপরাধের দৃশ্যত প্রমাণ (prima facie evidence) থাকা সত্ত্বেও, অভিযুক্তদের মধ্যে একজনকে অব্যাহতি প্রদান করা আইনসম্মত হয়েছে কি না?
সিদ্ধান্ত :
গ্রহণযোগ্যতা (maintainability) প্রসঙ্গে হাইকোর্ট বিভাগ মত প্রদান করেন যে, রাষ্ট্র পক্ষ থেকে কোনো ধরনের রিভিশন আবেদন দায়ের করা না হলেও একজন তথ্যদাতা ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৩৫ ও ৪৩৯ ধারার অধীনে রিভিশন আবেদন দায়ের করার আইনত অধিকার (locus standi) রাখেন। আদালত আরও উল্লেখ করেন যে, হাইকোর্ট বিভাগের বিস্তৃত রিভিশনাল ক্ষমতা রয়েছে, যার মাধ্যমে অধস্তন আদালতের যে কোনো আদেশের বৈধতা, যথার্থতা ও শুদ্ধতা পরীক্ষা করতে পারেন। এমনকি, প্রয়োজনে হাইকোর্ট বিভাগ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে (suo motu) অধস্তন আদালতের কার্যধারায় কোনো বেআইনি কার্য বা গুরুতর ত্রুটি সংশোধনও করতে পারেন।
পরবর্তীতে হাইকোর্ট বিভাগ সিদ্ধান্ত দেন যে, ফৌজদারি কার্যবিধির ২৬৫গ ধারার অধীনে অভিযুক্ত সামিরকে অব্যাহতি দেওয়ার আদেশটি অবৈধ ছিল, কারণ প্রাথমিক তথ্য বিবরণী এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩ ধারার অধীনে দাখিলকৃত পুলিশ রিপোর্টে তার বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অপরাধের দৃশ্যত প্রমাণ (prima facie case) স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়। আদালত আরও মত দেন যে, বিচারিক আদালত অভিযুক্তকে অব্যাহতি দেওয়ার ক্ষেত্রে নথিভুক্ত উপাদানসমূহ যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
এছাড়াও আদালত দেখতে পান যে, অভিযোগ গঠনকালে বিচারিক আদালত একটি গুরুতর ত্রুটি করেছে। সেখানে ঘটনার তারিখ ০৮-০৭-১৯৯৮ উল্লেখ করা হয়, যা কেবল পূর্বের একটি ঘটনার (পক্ষগুলোর মধ্যে শত্রুতার ইঙ্গিতকারী ঘটনার) সাথে সম্পর্কিত ছিল; কিন্তু প্রকৃত ঘটনার তারিখ ছিল ১০-০৭-১৯৯৮। এই ভুলটি বিচারিক মনোযোগের অভাব (non-application of judicial mind) নির্দেশ করে।
উপর্যুক্ত বিষয়সমূহ বিবেচনা করে আদালত অব্যাহতির আদেশটি বাতিল (set aside) করেন এবং মামলাটি পুনর্বিবেচনার জন্য ও আইন অনুযায়ী সঠিকভাবে অভিযোগ গঠনের উদ্দেশ্যে পুনরায় বিচারিক আদালতে প্রেরণ (remand) করেন।
সংশ্লিষ্ট আইন :
- দণ্ডবিধি, ১৮৯০
- ধারা: ৩০২, ৩৩৪
- ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮
- ধারা: ১৭৩, ২৬৫গ, ৪৩৫ ও ৪৩৯
অনুবাদক :
১. মো. আতিকুর রহমান
[সতর্কতা : উক্ত মামলার বাংলা সংস্করণটি মূল ইংরেজি হতে অনূদিত। অর্থগত সামঞ্জস্যতা বজায় রাখার সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করা হয়েছে। কোনো প্রকার অসামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হলে, মূল ইংরেজি সংস্করণ প্রাধান্য পাবে।]
নোট : The Case Summary আইনের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং আইনের শিক্ষার্থীদের দ্বারা তৈরি একটি প্ল্যাটফর্ম। আমরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নির্ভুলভাবে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার ঘটনা ও রায় তুলে ধরার চেষ্টা করি। এই প্ল্যাটফর্মটি কখনোই পূর্ণাঙ্গ আইনের ধারণা প্রদান করে না, আমরা শিক্ষার্থীদের শুধু মাত্র মামলার সারাংশ নির্ভর হওয়াকে নিরুৎসাহিত করি। ধন্যবাদ