জিভোটোওস্কি বনাম ক্লিনটন (২০১২)

Zivotofsky v Clinton, Secretary of State (2012)

মেনাচেম বেঞ্জামিন জিভোটোওস্কি বনাম হিলারি রোডহ্যাম ক্লিনটন, সেক্রেটারি অফ স্টেট

সাইটেশন : 566 U.S. 189 (2012)

জুরিসডিকশন : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

আপিলকারী : মেনাচেম বেঞ্জামিন জিভোটোওস্কি [পক্ষে পিতামাতা এবং অভিভাবক, আরি জেড. এবং নাওমি সিগম্যান জিভোটোওস্কি]
বিবাদী : হিলারি রোডহ্যাম ক্লিনটন, সেক্রেটারি অফ স্টেট [পররাষ্ট্রমন্ত্রী]

ঘটনা :

মেনাচেম বেঞ্জামিন জিভোটোওস্কি ২০০২ সালে জেরুজালেমে এক আমেরিকান দম্পতির পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। কংগ্রেস, বৈদেশিক সম্পর্ক অনুমোদন আইন (২০০২) এর ২১৪(ঘ) ধারার মাধ্যমে নিয়ম করে যে, জেরুজালেমে জন্ম নেওয়া মার্কিন নাগরিকরা চাইলে তাদের পাসপোর্ট ও Consular Report of Birth Abroad-এ জন্মস্থান হিসেবে “ইসরায়েল” উল্লেখ করার জন্য অনুরোধ করতে পারবেন। কিন্তু মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই বিধান কার্যকর করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং তাদের দীর্ঘদিনের নীতি বজায় রাখে, যেখানে জেরুজালেমের বিতর্কিত আন্তর্জাতিক মর্যাদা নিয়ে নিরপেক্ষতা রক্ষার জন্য জন্মস্থান হিসেবে (কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে) শুধু “Jerusalem” লেখা হয়।

জিভোটোওস্কির বাবা-মা আইনটি কার্যকর করার দাবি জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলাটির জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তি নেই এবং বিষয়টি রাজনৈতিক প্রশ্নের, যা বিচারিক পর্যালোচনার এখতিয়ার  বহির্ভূত উল্লেখ করে জেলা আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন। পরবর্তীতে, ডিসি সার্কিট আদালত, মামলাটির প্রয়োজনীয় ভিত্তি রয়েছে মর্মে রায় দিলেও রাজনৈতিক প্রশ্নের ভিত্তিতে পুনরায় খারিজ করে দেন। আদালত জানান যে, মামলার বিষয়বস্তু মূলত বিদেশি রাষ্ট্র স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির একচ্ছত্র ক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত। এরপর জিভোটোওস্কি উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন।

ইস্যু :
১. জিভোটোওস্কির দাবি কি এমন কোনো রাজনৈতিক প্রশ্ন উত্থাপন করে, যা আদালতের বিচারিক পর্যালোচনার এখতিয়ার বহির্ভূত?
২. ২১৪(ঘ) ধারা সংবিধানসম্মত কি না, এ বিষয় কি আদালত নির্ধারণ করতে পারে, যদিও এই ধারা জেরুজালেমে জন্ম নেওয়া মার্কিন নাগরিকদের ক্ষেত্রে জন্মস্থান হিসেবে “ইসরায়েল” উল্লেখ করতে নির্বাহী বিভাগকে বাধ্য করে এবং প্রেসিডেন্টের বিদেশি রাষ্ট্র স্বীকৃতির একচ্ছত্র ক্ষমতাকে খর্ব করতে পারে?

যুক্তিতর্ক :

আপিলকারীর পক্ষের যুক্তি :
জিভোটোওস্কি যুক্তি দেন যে, কংগ্রেস সংবিধানসম্মত ভাবেই বৈদেশিক সম্পর্ক অনুমোদন আইন–এর ধারা ২১৪(ঘ) প্রণয়ন করে, যা জেরুজালেমে জন্ম নেওয়া মার্কিন নাগরিকদের পাসপোর্টে জন্মস্থান হিসেবে “ইসরায়েল”লেখার অনুমোদন দেয়। তিনি জানান, জন্মস্থান উল্লেখ করা একটি প্রশাসনিক ও পরিচয়সংক্রান্ত বিষয়, এটি কোনো বিদেশি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার সমতুল্য নয়। তিনি বলেন, নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট সংক্রান্ত বিষয়ে কংগ্রেসের স্পষ্ট ক্ষমতা আছে, এবং এই আইন কেবল নির্বাহী বিভাগকে আইন অনুযায়ী কাজ করতে নির্দেশ দেয়, কোনো পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণের ক্ষমতা দেয় না। জিভোটোওস্কি আরও যুক্তি দেন যে, আদালত এই আইনের সাংবিধানিকতা পরীক্ষা করতে পারেন, কারণ এটি পররাষ্ট্রনীতি তৈরির বিষয় নয়, বরং আইন ব্যাখ্যার প্রশ্ন। তাই এই ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রশ্ন তত্ত্ব আদালতের বিচারিক ক্ষমতাকে বাধা দেয় না।

বিবাদী পক্ষের যুক্তি:
সরকার পক্ষ যুক্তি দেয় যে, ধারা ২১৪(ঘ) কার্যকর করতে বাধ্য করা হলে, রাষ্ট্রপতির কার্যত স্বীকার করতে হবে যে জেরুজালেম ইসরায়েলের একটি অংশ, যা বিদেশি রাষ্ট্র স্বীকৃতির ক্ষেত্রে নির্বাহী বিভাগের একচ্ছত্র সাংবিধানিক ক্ষমতার সুস্পষ্ট হস্তক্ষেপ। সরকারের মতে, এটি একটি পরিষ্কার রাজনৈতিক প্রশ্ন, যা আদালতের বিচারিক পর্যালোচনার এখতিয়ার বহির্ভূত। নির্বাহী বিভাগ আরও জানান, পাসপোর্টে “ইসরায়েল” উল্লেখের বাধ্যবাধকতা রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ওপর অনধিকার হস্তক্ষেপ হবে, বিশেষ করে জেরুজালেমের রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা বিবেচনায়। সরকার পক্ষের অবস্থান ছিল যে, পাসপোর্টে দেশ-সংক্রান্ত কোনো বিষয় উল্লেখ পররাষ্ট্রনীতির অংশ, এবং এ ধরনের বাধ্যবাধকতা জেরুজালেম নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সরকার আরও দাবি করে যে, আদালতগুলোর কাছে এ ধরনের পররাষ্ট্র বিষয়ক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য স্পষ্ট ও কার্যকর মানদণ্ড নেই, এবং রাজনৈতিক দলগুলোর নিকট বিচারিক ব্যবস্থায় না গিয়ে নিজেদের মধ্যে এসব মতবিরোধ সমাধানের উপায় রয়েছে। সর্বশেষ, সরকার পক্ষ যুক্তি দেয় যে, জিভোটোওস্কির দাবি মূলত আদর্শগত, যা কোনো মৌলিক আইনি অধিকারের প্রশ্ন নয়। তাই আদালতের এতে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।

সিদ্ধান্ত :

সুপ্রিম কোর্ট রায় দেন যে, এই মামলাটি আদালতেই বিচারযোগ্য। আদালত জানায়, জিভোটোওস্কির দাবি আদালতকে জেরুজালেমের সার্বভৌমত্ব নির্ধারণ করতে বলছে না; বরং প্রশ্নটি কেবল এই যে, কোনো আইন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, যা মারবেরি বনাম ম্যাডিসন মামলার রায় অনুযায়ী আদালতের মৌলিক দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। আদালত আরও স্পষ্ট করেন যে, কোনো বিষয়ে পররাষ্ট্রনীতি জড়িত থাকলেই তা রাজনৈতিক প্রশ্ন হয়ে যায় না, এবং যখন পরিষ্কার বিচারিক মানদণ্ড থাকে, তখন আদালত সাংবিধানিক পর্যালোচনা করতে পারেন। এই ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট ডিসি সার্কিটের সিদ্ধান্ত বাতিল করেন এবং মামলাটি মূল বিষয়ে রায় দেওয়ার জন্য ফেরত পাঠান। বিচারপতি আলিটো সম্মত মতামতে বলেন যে, সাংবিধানিক প্রশ্ন নির্ধারণ করা আদালতের স্বাভাবিক ও নিয়মিত কাজ। আর বিচারপতি ব্রেয়ার ভিন্নমত পোষণ করে বলেন যে, পররাষ্ট্র বিষয়ের সংবেদনশীলতা বিবেচনায় আদালতের সংযত থাকা উচিত ছিল।

সংশ্লিষ্ট আইনি নীতি :

রাজনৈতিক প্রশ্ন মতবাদ: রাজনৈতিক প্রশ্ন মতবাদ অনুযায়ী, কিছু বিষয় আদালতের পরিবর্তে রাজনৈতিক শাখাগুলোর, অর্থাৎ, নির্বাহী বা আইনসভা দ্বারা সমাধান করাই অধিক উপযুক্ত। এই নীতির অধীনে বিচার বিভাগ এমন বিষয়ে হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকে, যেখানে রাজনৈতিক বিবেচনা, নীতি নির্ধারণ বা স্পষ্ট আইনি মানদণ্ডের অভাব রয়েছে। এই মতবাদ প্রতিফলিত করে যে কিছু প্রশ্ন এতটাই রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল যে তা এক অরাজনৈতিক বিচার বিভাগের যথাযথ ভূমিকার সীমার বাইরে অবস্থান করে।

সংশ্লিষ্ট আইন :

  1. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান
  2. বৈদেশিক সম্পর্ক অনুমোদন আইন (২০০২) (যুক্তরাষ্ট্র)
    • ধারা: ২১৪(ঘ)

অনুবাদক :
. মো. আতিকুর রহমান

নোট : The Case Summary আইনের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং আইনের শিক্ষার্থীদের দ্বারা তৈরি একটি প্ল্যাটফর্ম। আমরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নির্ভুলভাবে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার ঘটনা ও রায় তুলে ধরার চেষ্টা করি। এই প্ল্যাটফর্মটি কখনোই পূর্ণাঙ্গ আইনের ধারণা প্রদান করে না, আমরা শিক্ষার্থীদের শুধু মাত্র মামলার সারাংশ নির্ভর হওয়াকে নিরুৎসাহিত করি। ধন্যবাদ


Cite this Page:

OSCOLA

APA

Bluebook

Share