স্পাইস টেলিভিশন প্রাইভেট লি. বনাম বাংলাদেশ সরকার (২০২০)

Spice Television Private Limited Vs. Government of Bangladesh and Ors. (2020)

স্পাইস টেলিভিশন প্রাইভেট লিমিটেড বনাম বাংলাদেশ সরকার এবং অন্যান্য

সাইটেশন : 73 DLR (HCD) 143

জুরিসডিকশন : বাংলাদেশ

আবেদনকারী : স্পাইস টেলিভিশন প্রাইভেট লিমিটেড
বিবাদী : বাংলাদেশ সরকার এবং অন্যান্য

ঘটনা :

স্পাইস টেলিভিশন প্রাইভেট লিমিটেড, একটি বেসরকারি কোম্পানি, ৯ আগস্ট ২০১৭ তারিখে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল পরিচালনার জন্য অনাপত্তি সনদ (এনওসি) পায়। এর ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি যথাক্রমে ২৭ আগস্ট ২০১৭ এবং ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখে বিটিআরসি -এর কাছে ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দের আবেদন করে, কিন্তু আবেদনের ফলেও কোনো প্রকার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। প্রতিকার পাওয়ার জন্য আবেদনকারী ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখে একটি আইনি নোটিশ প্রদান করে। এদিকে বিটিআরসি ডিজিএফআই, এনএসআই এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে ক্লিয়ারেন্স চায়। ডিজিএফআই ও এনএসআই ইতিবাচকভাবে রিপোর্ট দিলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বারবার জানানো সত্ত্বেও কোনো উত্তর প্রদান করেনি। ডিসেম্বর ২০১৭-তে বিটিআরসি সরঞ্জাম আমদানির উদ্দেশ্যে অস্থায়ীভাবে ৬ মেগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দ দিলেও পরবর্তীতে কোনো স্থায়ী বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। বিষয়টি দীর্ঘদিন অমীমাংসিত থাকায় আবেদনকারী সংবিধানের ১০২(২)(ক)(i) অনুচ্ছেদের অধীনে রিট আবেদন দাখিল করে, যার প্রেক্ষিতে ১৪ মার্চ ২০১৯ তারিখে হাইকোর্ট বিভাগ রুল জারি ও অন্তর্বর্তী নির্দেশনা প্রদান করেন। পরবর্তীতে ২০২০ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিবাদী নং ৪ হিসেবে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

ইস্যু :
১. বিবাদী নং ৩ (বিটিআরসি) টেলিযোগাযোগ আইন, ২০০১ এর অধীনে আইনসম্মত ও যথাসময়ে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে কি না।
২. এনওসি (অনাপত্তি সনদ) এবং দীর্ঘদিনের অনুসরণ-প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে আবেদনকারীর ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দ পাওয়ার যৌক্তিক প্রত্যাশা (legitimate expectation) ছিল কি না।
৩. বিবাদী নং ৪ (স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়)-এর বিলম্ব বিটিআরসির উপর অর্পিত দায়িত্বকে অকার্যকর করে বা তাদের দায়িত্ব স্থানান্তর করে কি না।

যুক্তিতর্ক :

আবেদনকারী পক্ষের যুক্তি :
আবেদনকারী যুক্তি দেন যে, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন, ২০০১ এর ৫৫ এবং ৫৬(৮) ধারার অধীনে বিটিআরসির ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দ দেওয়ার পূর্ণ আইনগত অধিকার রয়েছে, তবুও তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে তারা এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তারা আরও বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিষ্ক্রিয় অবস্থান বিটিআরসিকে পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত রাখার কথা নয়, কারণ আইন অনুযায়ী বিটিআরসি নিজ বিবেচনায় এসব পদক্ষেপ নেয়ার অধিকারী। আবেদনকারী দাবি করেন যে, এনওসি (অনাপত্তি সনদ) এবং কাজের ধারাবাহিকতার ভিত্তিতে তাদের ফ্রিকোয়েন্সি পাওয়ার যৌক্তিক প্রত্যাশা (legitimate expectation) তৈরি হয়েছিল, এবং এই দীর্ঘ বিলম্ব তাদের ক্ষতির সম্মুখীন করেছে।

ম্যান্ডামাস রিটের পক্ষে তারা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ও উল্লেখ করেন, যার মধ্যে ছিল 55 DLR AD 130, 46 DLR AD 148, এবং 65 DLR AD 145.

বিবাদী পক্ষের যুক্তি:
বিটিআরসি জানায়, আবেদনকারীর আবেদন পাওয়ার পর ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (ডিজিএফআই), ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স (এনএসআই) এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে নিরাপত্তা ছাড়পত্র চাওয়াসহ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপই তারা নিয়েছিল। ডিজিএফআই ও এনএসআই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ছাড়পত্র প্রদান করলেও, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দীর্ঘ সময় ধরে বারংবার জানানোর পরও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বিটিআরসি আরও উল্লেখ করে যে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র ছাড়া স্থায়ী ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব না হলেও, আবেদনকারীর কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতিতে সহায়তার জন্য ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে অস্থায়ী ফ্রিকোয়েন্সি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তারা দাবি করে যে সব কার্যক্রম যথাযথভাবে, সৎ বিশ্বাসে এবং আইনগত বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী সম্পন্ন করা হয়েছিল।

সিদ্ধান্ত :

আদালত রুলটি নিষ্পত্তি করে বিবাদী নং ৩, বিটিআরসি, -কে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দুই মাসের মধ্যে, রুল অনুসারে অবিলম্বে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ প্রদান করেন। বিটিআরসি সদিচ্ছা নিয়ে কাজ করেছিল তা স্বীকার করেও আদালত বলেন, ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দের জন্য বিটিআরসি-র সম্পূর্ণ বিধিবদ্ধ ক্ষমতা রয়েছে এবং এখন তাদের উচিত আর অযৌক্তিক বিলম্ব না করে স্বাধীনভাবে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করা। আদালত রায় দেন যে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লাগাতার নিষ্ক্রিয় অবস্থান আবেদনকারীর আইনগত অধিকারকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাধাগ্রস্ত করতে পারে না। আদালত এ বিষয়টিও নিশ্চিত করেন যে, যেখানে কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষকে তার আইনগত দায়িত্ব পালন করতে বাধ্য করা প্রয়োজন, সেখানে সংবিধানের ১০২(২)(ক)(i) অনুচ্ছেদের অধীনে ম্যান্ডামাস রিট জারি করা যায়।

সংশ্লিষ্ট আইনি নীতি :

বৈধ প্রত্যাশার নীতি: বৈধ প্রত্যাশার নীতি প্রশাসনিক আইনের একটি নীতি, যা ব্যক্তি বিশেষকে হঠাৎ বা অন্যায়ভাবে সরকারি নীতি বা সিদ্ধান্তের পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়, বিশেষ করে যখন তারা পূর্বের কর্মকাণ্ড, প্রতিশ্রুতি বা সরকারি কর্তৃপক্ষের প্রতিষ্ঠিত চর্চার উপর ভিত্তি করে কোনো নির্দিষ্ট আচরণের প্রত্যাশা করে থাকেন।  তবে কিছুক্ষেত্রে বৈধ প্রত্যাশা কেবল বৈধ জনস্বার্থের কারণে অগ্রাহ্য করা যেতে পারে। এ ধরনের ক্ষেত্রে বৈধ কারণ বা জনস্বার্থের ভিত্তি দেখিয়ে বৈধ প্রত্যাশা নাকচ করার যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

সংশ্লিষ্ট আইন :

  1. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান
    • অনুচ্ছেদ: ১০২(২)(ক)(i)
  2. বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন, ২০০১
    • ধারা : ৫৫, ৫৬(৮)

অনুবাদক :
. মো. আতিকুর রহমান

নোট : The Case Summary আইনের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং আইনের শিক্ষার্থীদের দ্বারা তৈরি একটি প্ল্যাটফর্ম। আমরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নির্ভুলভাবে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার ঘটনা ও রায় তুলে ধরার চেষ্টা করি। এই প্ল্যাটফর্মটি কখনোই পূর্ণাঙ্গ আইনের ধারণা প্রদান করে না, আমরা শিক্ষার্থীদের শুধু মাত্র মামলার সারাংশ নির্ভর হওয়াকে নিরুৎসাহিত করি। ধন্যবাদ


Cite this Page:

OSCOLA

APA

Bluebook

Share