নুরুন নবীর সরকার বনাম সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয় (২০১৫)

Nurun Nabir Sarker vs. Secretary, Ministry of Education and Others (2015)

নুরুন নবীর সরকার বনাম সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য (২০১৫)

সাইটেশন : 68 DLR (2016)

জুরিসডিকশন : বাংলাদেশ

আবেদনকারী : নুরুন নবীর সরকার
বিবাদী : সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য

ঘটনা :

আবেদনকারীকে যথাযথ নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ১১ এপ্রিল ১৯৯৯ তারিখে গাইবান্ধার উজান টেউরা টিইউএম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৯৯৫ সালের মে মাস থেকে তার নাম এমপিও তালিকাভুক্ত হয় এবং তিনি নিয়মিত বেতন ও অন্যান্য সুবিধা পেয়ে আসছিলেন। কিন্তু ১২ অক্টোবর ২০১৪ তারিখে ম্যানেজিং কমিটি হঠাৎ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে, যেখানে বরখাস্তের মেয়াদ উল্লেখ করা হয়নি এবং স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বেসরকারি স্কুল শিক্ষকগণের চাকুরির শর্ত বিধিমালা, ১৯৭৯ এর অধীনে তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গ দায়ে কোনো প্রকার আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়নি।

এ সম্পর্কে প্রতিকার চেয়ে আবেদনকারী, ২২ মার্চ ২০১৫ তারিখে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, দিনাজপুর (গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি) প্রবিধানমালা, ২০০৯ এর প্রবিধান ৩৮(৩) এর অধীনে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, দিনাজপুর-এর চেয়ারম্যান, সচিব এবং বিদ্যালয় পরিদর্শকের কাছে একটি আবেদন দাখিল করেন। কিন্তু বোর্ড এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

অবশেষে অন্য কোনো প্রতিকার না থাকায় আবেদনকারী সংবিধানের ১০২(২)(ক)(অ) এবং ১০২(২)(ক)(আ) অনুচ্ছেদের অধীনে রিট আবেদন দায়ের করেন। তিনি দাবি করেন যে, তার বরখাস্ত এবং বোর্ডের নিষ্ক্রিয়তা বেআইনি এবং যা তার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করেছে।

ইস্যু :
১. ম্যানেজিং কমিটি কর্তৃক জারিকৃত বরখাস্ত আদেশটি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বেসরকারি স্কুল শিক্ষকগণের চাকুরির শর্ত বিধিমালা-১৯৭৯ অনুযায়ী বৈধ ছিল কি না।
২. দিনাজপুরের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড ২০০৯ সালের প্রবিধানমালার প্রবিধান ৩৮(৩) অনুযায়ী তাদের আইনগত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে কি না।
৩. ইচ্ছাকৃত ও অযৌক্তিক বরখাস্ত এবং প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার কারণে সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ (অনুচ্ছেদ ৪৪ এর সাথে) অনুযায়ী আবেদনকারীর মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে কি না।

যুক্তিতর্ক :

আবেদনকারী পক্ষের যুক্তি :
আবেদনকারী যুক্তি দেন যে, ম্যানেজিং কমিটি তাকে যে বরখাস্তের আদেশ দিয়েছে তা আইনসংগত নয় এবং তা অবৈধ ভাবে জারি করা হয়েছে, কারণ এটি ১৯৭৯ সালের প্রবিধানমালায় নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই করা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন যে, দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান -মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, দিনাজপুর (গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি) প্রবিধানমালা, ২০০৯ এর প্রবিধান ৩৮(৩) অনুযায়ী তার দাখিল করা আবেদন নিষ্পত্তি করতে ব্যর্থ হয়েছেন, যা ছিল বোর্ডের একটি সুস্পষ্ট আইনগত দায়িত্ব।আবেদনকারী আরও দাবি করেন যে, তাকে অনির্দিষ্টকাল ধরে বেতন ছাড়াই বরখাস্ত অবস্থায় রাখা হয়েছে, যা বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদ (৪৪ অনুচ্ছেদের সঙ্গে পাঠ করে) প্রদত্ত তার সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করেছে।

বিবাদী পক্ষের যুক্তি:
বিবাদী পক্ষ কর্তৃক বরখাস্তের বৈধতা বা বোর্ডের দীর্ঘস্থায়ী নিষ্ক্রিয়তা সমর্থন করে কোনো যুক্তি উপস্থাপন করা হয়নি। ফলশ্রুতিতে, আদালত আবেদনকারীর উপস্থাপিত যুক্তি এবং নথিতে থাকা তথ্যাদির ভিত্তিতে বিষয়টি বিবেচনা করেন।

সিদ্ধান্ত :

আদালত ঘোষণা করেন যে, আবেদনকারীর বরখাস্ত বেআইনি, কারণ এতে বরখাস্তের মেয়াদ নির্ধারিত ছিল না এবং কোনো শৃঙ্খলাভঙ্গ কার্যক্রমও চলমান ছিল না। আদালত এটিকে ক্ষমতার অপপ্রয়োগ এবং আবেদনকারীর মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন। একইসাথে, দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডকে নির্দেশ দেওয়া হয় যে, তারা ১০ কার্যদিবসের মধ্যে আবেদনকারীর আবেদন নিষ্পত্তি করবে, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বেসরকারি স্কুল শিক্ষকগণের চাকুরির শর্ত বিধিমালা, ১৯৭৯ এর প্রয়োগ নিশ্চিত করবে, এবং ১৫ দিনের মধ্যে সম্মতি-স্বরূপ হলফনামা দাখিল করবে।

আদালত সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদের ওপর নির্ভর করে আরও জানান, কোনো ব্যক্তিকে ৬০ দিনের বেশি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ছাড়া বরখাস্ত অবস্থায় রাখা যাবে না। এ সময়সীমা অতিক্রম করলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী ভাতা নয় বরং পূর্ণ বেতন পাওয়ার অধিকারী হবেন। বিবাদীদের আবেদনকারীর প্রাপ্য বেতন এবং ১০,০০০ টাকা ব্যয় প্রদান করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। রায়ের অনুলিপি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয় যাতে তারা সারা দেশে একই ধরনের অনিয়ম রোধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করতে পারে।

সংশ্লিষ্ট আইন :

  1. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান
    • অনুচ্ছেদ : ৩১, ৪৪, ১০২(২)(ক)(অ), ১০২(২)(ক)(আ), ১১১
  2. স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বেসরকারি স্কুল শিক্ষকগণের চাকুরির শর্ত বিধিমালা, ১৯৭৯
  3. মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, দিনাজপুর (গভর্নিংবডি ও ম্যানেজিং কমিটি) প্রবিধানমালা, ২০০৯
    • প্রবিধান : ৩৮(৩)

অনুবাদক :
. মো. আতিকুর রহমান

নোট : The Case Summary আইনের শিক্ষার্থীদের জন্য এবং আইনের শিক্ষার্থীদের দ্বারা তৈরি একটি প্ল্যাটফর্ম। আমরা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নির্ভুলভাবে বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার ঘটনা ও রায় তুলে ধরার চেষ্টা করি। এই প্ল্যাটফর্মটি কখনোই পূর্ণাঙ্গ আইনের ধারণা প্রদান করে না, আমরা শিক্ষার্থীদের শুধু মাত্র মামলার সারাংশ নির্ভর হওয়াকে নিরুৎসাহিত করি। ধন্যবাদ


Cite this Page:

OSCOLA

APA

Bluebook

Share